ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের (Dual Citizenship) কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যার ফলে পুরো কার্যালয় চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মনোনয়ন বাতিলের মূল কারণ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত প্রার্থী মাহাবুব আলম সালেহীর 'ইংল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিকত্ব' থাকায় আইন অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২ জানুয়ারি বাছাইয়ের দ্বিতীয় কার্যদিবসে তার মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ ও প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া মনোনয়ন বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক (Biased) দাবি করে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহী বলেন, "কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা থাকলেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল ডিসিশন দিয়েছেন। এই ডিসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।" তিনি উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বৈধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন অভিযোগ করেন, তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও সেগুলো না দেখেই প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচার নয়। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
অন্যান্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল খালেকের মনোনয়নও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত পেপার্স জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আব্দুল খালেক তার সত্যতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর মনোনয়নও অবৈধ হয়েছে।
আপিলের সুযোগ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, নির্বাচন বিধিমালার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা আগামী ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন। উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা বৈধতা পেলে, সেক্ষেত্রে তাঁদের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাঁদের নেই।