• বিনোদন
  • কেক নয়, গুড়ের সন্দেশে ভিন্ন আমেজে জন্মদিন উদ্‌যাপন রুনা খানের; ভক্তদের জন্য দিলেন বিশেষ বার্তা

কেক নয়, গুড়ের সন্দেশে ভিন্ন আমেজে জন্মদিন উদ্‌যাপন রুনা খানের; ভক্তদের জন্য দিলেন বিশেষ বার্তা

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
কেক নয়, গুড়ের সন্দেশে ভিন্ন আমেজে জন্মদিন উদ্‌যাপন রুনা খানের; ভক্তদের জন্য দিলেন বিশেষ বার্তা

পারিবারিক আবহে জীবনের নতুন বসন্তে পা রাখলেন ‘হালদা’ খ্যাত গুণী অভিনেত্রী; স্বামী ও কন্যার সারপ্রাইজে আপ্লুত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তারকা।

জনপ্রিয় শিশুতোষ সিরিজ ‘সিসিমপুর’-এর সুমনা চরিত্রটি দিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী রুনা খান আজ জীবনের এক বিশেষ দিন পার করছেন। টাঙ্গাইলের এই কৃতি সন্তান ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণিল ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে। তবে এবারের জন্মদিনে তিনি প্রথাগত কেক কাটার উৎসব এড়িয়ে গিয়ে বেছে নিয়েছেন এক ভিন্নধর্মী উদ্‌যাপন।

কেক নয়, মেয়ের পছন্দের উপহারে কাটল জন্মদিনের প্রথম প্রহর চলতি বছর জন্মদিন পালনে ভিন্নতা এনেছেন রুনা খান। জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই তিনি ছিলেন পরিবারের ঘেরাটোপে। দিনভর শুটিংয়ের ব্যস্ততা শেষে বাসায় ফিরতেই স্বামী ও কন্যার কাছ থেকে পান এক বিশেষ সারপ্রাইজ। রুনা খানের অত্যন্ত প্রিয় খাবার গুড়ের সন্দেশ। মায়ের এই পছন্দের কথা মাথায় রেখে তার কন্যা আগেভাগেই এক বিশেষ গুড়ের সন্দেশ অর্ডার করে রেখেছিলেন। মা হিসেবে এই ছোট কিন্তু আবেগঘন উপহারটি রুনার কাছে ছিল অত্যন্ত হৃদস্পর্শী। কেকের বদলে সেই গুড়ের সন্দেশ কেটেই জন্মদিন উপভোগ করেন এই National Film Award বিজয়ী তারকা।

স্বামী ও কন্যার ভালোবাসায় সিক্ত রুনা পরিবারই রুনার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রতি বছরের মতো এবারও রুনার স্বামী তাকে একটি ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি উপহার দিয়েছেন। রুনা সবসময়ই বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগী, তাই জামদানি উপহারটি তার আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। নিজের জন্মদিন নিয়ে গণমাধ্যমকে রুনা জানান, "জন্মদিন আমার কাছে অন্য সাধারণ দিনগুলোর মতোই। তবে এই দিনটি সার্থক হবে তখনই, যখন আমি আমার নৈতিকতা ও বিশ্বাস বজায় রেখে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছু করতে পারব।"

জীবন ও নৈতিকতা নিয়ে রুনার বিশেষ দর্শন দীর্ঘদিনের এই পথচলায় রুনা খান নিজেকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে মনে করেন। সৃষ্টিকর্তা, প্রকৃতি এবং বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে, আমার চারপাশে এমন মানুষরা আছেন যারা আমাকে ভালোবাসা ও সম্মানের মধ্যে রাখেন। জীবনের এই প্রাপ্তিগুলোকে আমি আশীর্বাদ বলে মনে করি।" অভিনয় জগতে তার এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং শিল্পমান সম্পন্ন Content এবং বলিষ্ঠ Character-driven অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা।

সিসিমপুর থেকে বড় পর্দা: এক বর্ণিল ক্যারিয়ারের গল্প রুনা খানের ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত। 'ছিটকিনি', 'হালদা', 'গহীন বালুচর' এবং 'নীলপদ্মর' মতো সিনেমায় অভিনয় করে তিনি সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে 'হালদা' সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

অন্যদিকে ছোটপর্দায় তার জনপ্রিয়তার গ্রাফ সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী। ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, ‘কষ্টনীড়’, ‘আন্তঃনগর’ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘অসময়’ ও ‘বোধ’-এ তার অভিনয় ছিল অনবদ্য। ওটিটি (OTT Platform) এবং মূলধারার টেলিভিশন নাটকে তিনি সমান তালে তার আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

আসন্ন প্রজেক্টে ব্যস্ত সময় বর্তমানে রুনা খানের হাতে রয়েছে একাধিক সিনেমা ও মেগা প্রজেক্ট। এর মধ্যে ‘রক্তছায়া’, ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’, ‘স্বপ্ন’, ‘নিদ্রাসূর’, ‘বালুঘড়ি’ এবং ‘উনাদিত্য’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শুটিং সেটে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চরিত্রের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তিনি। নতুন বছরে তার এই ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জন্মদিনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী।

Tags: bangladeshi actress actress ott platform birthday celebration runa khan sisimpur halda jamdani gurer sondesh silver screen