বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বা আসন্ন নির্বাচন নিয়ে হুমকির কোনো বাস্তব ভিত্তি বা গুরুত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, "যাদের সাহস আছে, তারা দেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হোন। তা না করে বিদেশে বসে দেওয়া বক্তব্যের কোনো 'Value' বা মূল্য নেই।"
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (BGB) ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেডের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পলাতক নেতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও আইনি অবস্থান
পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্বাচনকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্য ও প্রচ্ছন্ন হুমকির বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "পালিয়ে থাকা ব্যক্তিরা নানা কথা বলতেই পারেন। কিন্তু আইনের আওতায় না এসে কথা বললে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।" তিনি মনে করেন, জনগণের রায়ের ওপর শ্রদ্ধা রেখে যারা কথা বলতে চান, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভোট উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত ‘Security Forces’ মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, "কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমরা ফোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াচ্ছি।" সবার সহযোগিতা থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মিয়ানমার সীমান্ত ও ‘আরাকান আর্মি’ ইস্যু
সীমান্তের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কৌশলগত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে জান্তা বাহিনীর পরিবর্তে ‘Arakan Army’-র নিয়ন্ত্রণ থাকায় পরিস্থিতির জটিলতা বেড়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগে সীমান্তে মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশ সরকার কোনোভাবেই ‘Legitimacy’ বা বৈধতা দেয়নি। তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে সীমান্তে যে সমস্যা হচ্ছে, আমরা নিয়মিত মিয়ানমার সরকারের কাছে ‘Diplomatic Protest’ বা কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
বাহিনীতে সাবেক সরকারের অনুসারী প্রসঙ্গে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো ‘অনুসারী’ বা ‘Loyalist’ লুকিয়ে আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বর্তমান বাহিনীতে এমন কারও কোনো অস্তিত্ব নেই এবং বাহিনী এখন সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
বিজিবির রেকর্ড রিক্রুটমেন্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এদিন বিজিবির রিক্রুটমেন্টে একটি নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এবার রেকর্ড ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সৈনিক তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, যা বিজিবির ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। এই বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করা। নবীন এই সৈনিকরা দ্রুতই বিভিন্ন ইউনিটে যোগ দিয়ে তাদের ‘Duty’ শুরু করবেন।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে দেশ রক্ষায় বিজিবির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।