স্কুলের মঞ্চে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা
শাহরুখ খানের কন্যা সুহানা খান, যিনি ইতিমধ্যে জোয়া আখতারের 'দ্য আর্চিস' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছেন, সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের কাছে তার শুরুর দিকের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্কুলে মঞ্চনাটকে অভিনয়ের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন। তাঁর প্রবল আশা ছিল, তিনি প্রধান চরিত্রেই সুযোগ পাবেন, কিন্তু তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ঘরে ফিরে তিনি একলা ভীষণ কেঁদেছিলেন।
সুহানা বলেন, “আমি ভীষণ মনখারাপ করেছিলাম এবং হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আর তখনই বুঝেছিলাম, আমি সত্যিই সেই চরিত্রগুলো করতে চাই এবং মঞ্চে থেকে রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে চাই।” এই ঘটনা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করে যে, অভিনয় ও সৃজনশীল প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর গভীর টান রয়েছে।
অভিনয়ের প্রতি প্রবল 'প্যাশন'
অভিনয়ে ব্যর্থতা তাঁকে আত্মবিশ্বাসের টানাপড়েনের মুখে ফেললেও, এটিই তাঁর পেশা ও স্বপ্নকে নতুন পথে চালিত করে। সুহানার মতে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে কৌতূহল ও অভিপ্রায়ের পাশাপাশি তাঁর সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো—প্রবল অনুরাগ বা 'প্যাশন'। তাঁর ভাষায়, “কৌতূহল, উদ্দেশ্য, কিন্তু সবচেয়ে বেশি হলো—প্যাশন। সবকিছুই দরকার।”
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাবা-মায়ের ভূমিকা
সুহানা তাঁর জীবনে বাবা-মা (শাহরুখ খান ও গৌরি খান)-কে সবচেয়ে বড় ভরসার মানুষ হিসেবে মনে করেন। তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে সুহানা যখন অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা করেন, তখন তাঁর বাবা-মা এগিয়ে আসেন। সুহানা জানান, শাহরুখ খান তাঁকে গভীর ও দার্শনিক পরামর্শ দেন, অন্যদিকে গৌরি খান ভণিতাবিহীন বাস্তবধর্মী কথা বলেন। তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে বাস্তবের মাটিতে রাখে এবং এই দুজনের মধ্যেই তিনি ভারসাম্য খুঁজে পান।
সুহানার শিক্ষাজীবন ও অভিষেক
উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ের ধীরুভাই আম্বানী ইনস্টিটিউশন থেকে পড়াশোনা শেষ করে সুহানা প্রথমে ব্রিটেনের আরডিংলে কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে, যেখানে তিনি নিউ ইয়র্ক ইডিনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম স্টাডিজ বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জোয়া আখতার পরিচালিত 'দ্য আর্চিস' সিনেমার মাধ্যমে সুহানা খানের বলিউডে অভিষেক ঘটে।