ফিটনেসই স্বাস্থ্যকর রাখে দীর্ঘমেয়াদে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের ক্লিনিকাল প্রফেসর ড. লিসা আর্লানজার মনে করেন, ওজন কমানোর বাইরেও স্বাস্থ্যবান হওয়ার বহু উপায় রয়েছে। নিয়মিত হাঁটা বা পেশী শক্তি বৃদ্ধির মতো কার্যকলাপগুলো ক্যান্সার, ডিপ্রেশন, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। একটি ২০২৪ সালের মেটা-অ্যানালিসিস দেখিয়েছে, মানুষ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে ওজন ধরে রাখতে পারে না। তাই ওজন কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সুবিধা অনেক সময় হারিয়ে যায়। খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন, যেমন— বেশি ফল ও সবজি খাওয়া, স্কেলের সংখ্যা না কমালেও সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে পারে।
স্থূলতা বৃদ্ধির কারণ: কেবল খাদ্য নয় অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর গ্লেন গ্যাসারের মতে, ১৯৮০ সালের পর থেকে স্থূলতা বেড়েছে, যার পেছনে অতিরিক্ত চিনি, কম শারীরিক কার্যকলাপ এবং অতিপ্রসেসড খাবার অনেকাংশে দায়ী। তবে বিষয়টি আরও জটিল। পরিবেশে প্লাস্টিক, কীটনাশক ও ‘ফোরেভার’ কেমিক্যালসের উপস্থিতি আমাদের এন্ডোক্রাইন সিস্টেমে প্রভাব ফেলে, যা শক্তি ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া, হিউম্যান অ্যাডেনোভাইরাস ৩৬-এর মতো ভাইরাসও স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
ডায়েট কেন দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়? বিশেষজ্ঞ আর্লানজার বলেছেন, ওজন কমানোর চেষ্টা প্রায়শই বিপরীত ফল দেয় এবং মানুষকে আরও বেশি ওজন বৃদ্ধির দিকে চালিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন কমানো ব্যক্তিদের প্রায় ৮০% পাঁচ বছরের মধ্যে আবার ওজন ফিরে পান। মানুষের শরীর সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ওজনের মধ্যে থাকতে চায়। কম খাওয়া হলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ঘুম কম হয় এবং ক্যালোরি গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা বাড়ে—এগুলো মূলত শরীরের বেঁচে থাকার চেষ্টা।
ফিটনেসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন শরীরের যত্ন নেওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো চলাফেরা এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপে মনোযোগ দেওয়া। সাইক্লিং, হাইকিং, নাচ বা বাগান করার মতো কার্যকলাপ স্বাস্থ্যকে উন্নত করে। প্রফেসর গ্যাসার জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি কোষ ফিটনেস দ্বারা ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। আপনার ওজন 'সাধারণ' না হলেও আপনি ফিট এবং স্বাস্থ্যবান থাকতে পারেন। নতুন কোনো ডায়েট ট্রেন্ডে ঝাঁপ দেওয়ার আগে বাইরে বের হয়ে হাঁটুন বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপ করুন। শরীর ও মন—দুটোই এতে উপকৃত হবে। ফিটনেসই আসল স্বাস্থ্য, শুধু ওজন নয়।