বরগুনার পাথরঘাটায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছে। বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে পাথরঘাটা পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পাথরঘাটা পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কে অবস্থিত তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নাটকীয় গ্রেফতার
পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএনপির দুই নেতার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বজলুর রহমান অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে (Police Custody) জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ১১ নেতাকর্মী আটক
কেবল জামায়াত আমিরই নন, পাথরঘাটার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী (Joint Forces)। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে বিএনপি, জামায়াত এবং তাঁদের অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘাত ও মারামারির ঘটনায় এসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তৃণমূলে সংঘাত ও নির্বাচনী অস্থিরতা
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাথরঘাটায় দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে চরম বিরোধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা (Political Rivalry) দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দুই বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। এই সংঘাত এখন কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আইনি লড়াই ও গ্রেফাতার আতঙ্কে রূপ নিয়েছে।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
পাথরঘাটা সার্কেলের (বামনা-পাথরঘাটা) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা (Election Violence) রোধে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে যারা আইন হাতে তুলে নেবে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপকূলীয় এই জনপদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সাধারণ ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।