• বিনোদন
  • মোশাররফ করিম ও শরিফুল রাজের সঙ্গে তমা মির্জার নতুন রসায়ন: বড় পর্দায় বড় চমকের প্রস্তুতি

মোশাররফ করিম ও শরিফুল রাজের সঙ্গে তমা মির্জার নতুন রসায়ন: বড় পর্দায় বড় চমকের প্রস্তুতি

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
মোশাররফ করিম ও শরিফুল রাজের সঙ্গে তমা মির্জার নতুন রসায়ন: বড় পর্দায় বড় চমকের প্রস্তুতি

‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগী’র সাফল্যের পর ২০২৫ সালে নিজেকে ভাঙার নয়া মিশনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী; নেপথ্যে দুই গুণী নির্মাতা ও দুই ভিন্ন ঘরানার অভিনেতা।

ঢালিউডের গ্ল্যামার জগত থেকে বেরিয়ে এসে গত কয়েক বছরে নিজেকে একজন শক্তিশালী পারফর্মার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তমা মির্জা। বিশেষ করে ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার সাফল্যের পর তার ক্যারিয়ারের গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরে বড় পর্দায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এবার আর একজন নয়, বরং সময়ের দুই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম এবং শরিফুল রাজের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে চলেছেন তিনি।

দুই ভিন্ন ঘরানার রসায়ন ও বড় পর্দার প্রস্তুতি

ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, তমা মির্জা অভিনীত নতুন দুটি প্রজেক্টের গল্প ও নির্মাণশৈলীতে থাকছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। একটি সিনেমায় তার সহশিল্পী হিসেবে থাকছেন ভার্সেটাইল অভিনেতা মোশাররফ করিম। অভিনয়ের শৈল্পিক ব্যাকরণে মোশাররফ করিমের যে আধিপত্য, তার বিপরীতে তমার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো তমা জুটি বাঁধতে চলেছেন হালের হার্টথ্রব শরিফুল রাজের সঙ্গে। পর্দার এই নতুন কেমিস্ট্রি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিনে-পাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল গুঞ্জন।

সিনেমা দুটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন দেশের দুই খ্যাতিমান নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল ও হাসান মোরশেদ। যদিও তমা মির্জা এখনই বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সারপ্রাইজ নষ্ট করতে নারাজ, তবে তিনি জানিয়েছেন, গল্পের বুনন এবং চরিত্রের গভীরতা তাকে নতুনভাবে প্রলুব্ধ করেছে। ‘জলযুদ্ধ’সহ নাম ঠিক না হওয়া অন্য সিনেমাটির শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার জন্য এখন শুধু লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের অপেক্ষা।

অঞ্জন দত্তের ফ্রেমে ওপার বাংলার অভিজ্ঞতা

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তমার প্রতিভার দ্যুতি পৌঁছে গেছে কলকাতাতেও। ওপার বাংলার কিংবদন্তি নির্মাতা অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ‘দুই বন্ধু’ ওয়েব সিরিজে কাজ করা তমার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। এই মিউজিক্যাল ড্রামা বা ওয়েব সিরিজের শুটিং করতে কলকাতায় কাটানো নয়টি দিনকে নিজের অভিনয় জীবনের সেরা স্মৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। অঞ্জন দত্তের মতো একজন খুঁতখুঁতে ও গুণী নির্মাতার নির্দেশনায় নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা তমার অভিনয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্ল্যামারের আড়ালে এক নিভৃতচারী শিল্পী

ক্যামেরার সামনে তমা মির্জা যতই দাপুটে হোন না কেন, পর্দার আড়ালে তিনি একেবারেই ঘরোয়া ও নিভৃতচারী। কাজের ব্যস্ততা না থাকলে বই পড়া, বিশ্বমানের সিনেমা দেখা কিংবা রান্নাঘরের নতুন কোনো রেসিপি নিয়ে মেতে থাকতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। একাকিত্ব তার কাছে নেতিবাচক কিছু নয়, বরং নিজের ভেতর প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই শিল্পী নিজেকে প্রথাগত ছকে আটকে রাখতে চান না। ‘সুড়ঙ্গ’ বা ‘দাগী’র সাফল্যের রেশ কাটিয়ে ২০২৫ সালে তিনি বড় পর্দায় হাজির হতে চান একজন কমপ্লিট অ্যাক্টর হিসেবে।

প্রযুক্তি ও সিনেমার নতুন সমীকরণ

বর্তমান সময়ে বাংলা সিনেমা কেবল থিয়েটার কেন্দ্রিক নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং গ্লোবাল মার্কেটের কথা মাথায় রেখে নির্মিত হচ্ছে। তমা মির্জার এই নতুন প্রজেক্টগুলোতেও উন্নত সিনেমাটোগ্রাফি এবং আধুনিক টেকনিক্যাল দিকগুলোর সমন্বয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে টেক-স্যাভি দর্শকদের কাছে ‘কনটেন্ট ভ্যালু’ বাড়াতে নির্মাতারা গল্পের ডিটেইলংয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন, যেখানে তমার মতো শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী বড় ভূমিকা পালন করেন।

Tags: bangla cinema dhallywood news national award mosharraf karim movie industry toma mirza shariful razz anjan dutt joljudho surongo