টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের গ্লানি আর মাঠের বাইরের নানা চাপে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ অবশেষে জয়ের কক্ষপথে ফিরল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ে লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তরুণ ডিফেন্ডার রাউল অ্যাসেনসিও।
মাঠে দাপট থাকলেও প্রথমার্ধে গোলের হাহাকার
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে লেভান্তেকে চেপে ধরে রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে তারা। পুরো ম্যাচে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘Ball Possession’ ধরে রেখেছিল স্বাগতিকরা। তবে লেভান্তের জমাট রক্ষণভাগের কারণে প্রথমার্ধে জালের ঠিকানা খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয় ভিনিসিয়ুস-এমবাপ্পেদের। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
পেনাল্টিতে এমবাপ্পের ডেডলক ভাঙা
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রিয়াল। কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করেন লেভান্তের ডিফেন্ডার আদ্রিয়ান দে লা ফুয়েন্তে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে ‘Spot Kick’ নিতে আসেন এমবাপ্পে নিজেই। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি লিগ আসরে নিজের ১৯তম গোলটি পূর্ণ করলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
অ্যাসেনসিওর হেডে জয় নিশ্চিত
এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর রিয়ালের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ৬৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্নাব্যুর ক্লাবটি। আরদা গিলেরের (Arda Güler) নেওয়া নিখুঁত ‘Corner Kick’ থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন রাউল অ্যাসেনসিও। বল কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে গেলে ২-০ ব্যবধানে লিড নেয় রিয়াল। দুই মিনিট পর এমবাপ্পে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেলেও তা হাতছাড়া করেন। শেষদিকে লেভান্তো গোল পরিশোধের কিছু চেষ্টা চালালেও রিয়ালের রক্ষণভাগ ও গোলকিপার তা দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দেন।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ
এই জয়ের ফলে ২০ ম্যাচে ১৫ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার ‘Points Table’-এ দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সংগ্রহ ১৯ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট। হ্যান্সি ফ্লিকের দল রিয়ালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেও ১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শিরোপার দৌড়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ যে বার্সার ওপর চাপ বজায় রাখল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।