• জাতীয়
  • ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য, কোনো পক্ষপাত করিনি’: আপিল শুনানি শেষে সিইসির বড় ঘোষণা

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য, কোনো পক্ষপাত করিনি’: আপিল শুনানি শেষে সিইসির বড় ঘোষণা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য, কোনো পক্ষপাত করিনি’: আপিল শুনানি শেষে সিইসির বড় ঘোষণা

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শর্ত শিথিল ও নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার নিয়ে টানা ৯ দিনের আপিল শুনানি সম্পন্ন করল নির্বাচন কমিশন; প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চাইলেন মহান আল্লাহর ওপর ভরসা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির পথে বড় একটি ধাপ পার করল বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোনো ধরনের চাপ বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আপিল শুনানি সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার। রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে টানা নয় দিনের দীর্ঘ আপিল শুনানি শেষে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার ও স্বচ্ছ

সিইসি নাসির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ইসির দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার এবং আমার পুরো টিমের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমরা কোনো ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। প্রতিটি আপিল অত্যন্ত বিচার-বিবেচনা এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কৌশল: ১ শতাংশ স্বাক্ষরের শর্ত শিথিল

নির্বাচনকে সত্যিকারের Participatory Election বা অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে ইসি যে নমনীয় ভূমিকা পালন করছে, তার উদাহরণ দেন সিইসি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের যে কঠোর শর্ত ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। সিইসি বলেন, “অনেকে হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। তাই আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করেছি যাতে মাঠ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ে।”

প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও ‘বাহাস’ উপমা

আপিল শুনানিতে প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ধৈর্যশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি শুনানির এই চমৎকার পরিবেশকে আলেম-ওলামাদের প্রচলিত তাত্ত্বিক লড়াই বা ‘বাহাস’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনাদের যুক্তি উপস্থাপন এবং প্রশ্নোত্তরের ধরণ দেখে আমি অভিভূত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনারা যেভাবে ধৈর্য ধরে কমিশনকে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য ইসি আপনাদের মোবারকবাদ জানাচ্ছে।”

ঋণ খেলাপি ও আইনি বাধ্যবাধকতা

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। বিশেষ করে ‘ঋণ খেলাপি’ (Loan Defaulter) প্রার্থীদের প্রার্থিতা বৈধ করার ক্ষেত্রে কমিশনের সীমাবদ্ধতার কথা জানান তিনি। সানাউল্লাহ বলেন, “কিছু ঋণ খেলাপি প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের নৈতিকভাবে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনের কাঠামোয় যেহেতু তাদের প্রার্থিতা বৈধ করার সুযোগ রয়েছে, তাই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই আমাদের সিদ্ধান্ত দিতে হয়েছে।”

সহযোগিতার আহ্বান

নির্বাচন কমিশন মনে করে, কেবল প্রশাসনিক কঠোরতা নয়, বরং একটি সফল নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। সিইসি নাসির উদ্দিন দেশবাসী ও গণমাধ্যমের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এজন্য আপনাদের গঠনমূলক সহযোগিতা আমাদের পথচলাকে আরও মসৃণ করবে।”

টানা নয় দিনের এই নিবিড় আপিল শুনানির মধ্য দিয়ে অনেক প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হলো, যা আগামী নির্বাচনের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Tags: election commission independent candidate bangladesh politics participatory election election 2024 democratic process loan defaulter appeal hearing cec nasir administrative neutrality