• জাতীয়
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ চীন: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ চীন: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ চীন: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

মাঠপর্যায়ের জনমত যাচাই শেষে চীনকে পাঠানো হয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তাব; ফিজিবিলিটি ও আর্থিক টেকসইতা যাচাইয়ে চলছে উচ্চপর্যায়ের সমীক্ষা।

উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের আজন্মের লালিত স্বপ্ন ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ (Teesta Mega Plan) বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকার তাদের পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই চাঞ্চল্যকর ও আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান। এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

চিনা রাষ্ট্রদূতের সফর ও সরাসরি পর্যবেক্ষণ

উপদেষ্টা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনার জন্য চীনের রাষ্ট্রদূত আজ রাতেই রংপুর পৌঁছাবেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি সরাসরি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “চীনা রাষ্ট্রদূত কাল নিজেই আপনাদের সামনে বলবেন যে, চীন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Fully Committed)। তারা বাংলাদেশকে এই মেগা প্রজেক্টে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।”

জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নতুন প্রস্তাব

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, এর আগে এই প্রকল্পের যে খসড়া ছিল, তা দীর্ঘদিন ফাইলবন্দি বা ‘শেলফে’ পড়ে ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাঠপর্যায়ে চারটি বড় সভার মাধ্যমে জনগণের মতামত সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে নথিপত্র পরিমার্জন করে চীনে পাঠিয়েছি। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (Ministry of Commerce) ইতিমধ্যে আমাদের প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”

চলছে দ্বিমুখী সমীক্ষা: টেকনিক্যাল ও ফিন্যান্সিয়াল

তিস্তা প্রকল্প এখন কোন পর্যায়ে আছে, তার ব্যাখ্যায় রিজওয়ানা হাসান জানান, বর্তমানে এটি দুটি স্তরে সমীক্ষা বা Feasibility Study-র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: ১. প্রযুক্তিগত সমীক্ষা (Technical Aspect): প্রকল্পটি শতভাগ ‘ফুলপ্রুফ’ এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে টেকসই কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ২. আর্থিক সমীক্ষা (Financial Sustainability): এটি একটি বিশাল বিনিয়োগের প্রকল্প। এই প্রকল্পে চীন যে বিপুল পরিমাণ Investment করবে, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও লাভজনক হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বেইজিং।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও উপদেষ্টার আগ্রহ

ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমার প্রবল ইচ্ছা ছিল আমার মেয়াদে অন্তত সমস্ত ‘পেপার ওয়ার্ক’ বা দাপ্তরিক কাজগুলো সম্পন্ন করে যাওয়া। আমাদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে যে যে ধাপগুলো পার করার কথা—জাতীয় এবং মাঠপর্যায়ে আলোচনা—আমরা সবকিছু সময়মতো সম্পন্ন করে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন চীন তাদের নিজস্ব প্রটোকল অনুযায়ী সময় নিচ্ছে।”

শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কারে ১৪ কোটির বরাদ্দ

মতবিনিময় সভায় রংপুরের স্থানীয় সমস্যা শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়েও কথা বলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, এই খালের সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) এবং সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। বর্তমানে কাজের ১২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে এবং ৪২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি কর্পোরেশন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চীনের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রকল্পের সফলতার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

Tags: rangpur news infrastructure development rizwana hasan teesta project china investment mega plan water resources feasibility study technical survey china ambassador