কোরিয়ান সিনেমা 'দ্য গ্রেট ফ্লাড' এর মূল কাহিনি
'দ্য গ্রেট ফ্লাড' সিনেমার গল্প শুরু হয় সিউল শহর প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য দিয়ে। এই বিপর্যয়ের মধ্যে গুন-আন-না (কিম দা-মি) এবং সন হে-জু (পার্ক হ্য-সু) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে আটকে পড়েন। চারদিকে যখন জলরাশি কেবলই বাড়তে থাকে, তখন এই দুজন কীভাবে নিজেদের জীবন বাঁচাতে লড়াই করে, সেই রোমাঞ্চকর ঘটনাই পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
পরিচালকের দৃষ্টিকোণ: পানির দ্বৈত রূপ
পরিচালক কিম বায়ং-উ তাঁর ছবিতে পানির এক দ্বৈত রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর মতে, পানি যেমন জীবনের উৎস, তেমনি ধ্বংসেরও প্রতীক। তিনি বলেন, “পানি জীবনের উৎস এবং আমাদের দেহের একটি বড় অংশের উপাদান। এটি বিভিন্ন রূপে আসতে পারে। প্রথমে একে নিছক একটি বিপর্যয় বলে মনে হলেও, সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে এর অর্থ পরিবর্তিত হয়।” এই গভীর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি সিনেমাটিকে গতানুগতিক থ্রিলার থেকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
অভিনেতাদের চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি
অভিনেত্রী কিম দা-মি জানান, চিত্রনাট্যটি প্রথম পড়ার সময় এটি পর্দায় কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা কল্পনা করা কঠিন ছিল। তবে নির্মাতার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল। অন্যদিকে, অভিনেতা পার্ক হ্য-সুও একই ধরনের সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পরিচালক প্রকৃতির এই বিশাল পরিবর্তন কীভাবে পর্দায় দেখাবেন, তা জানার জন্য আমি আগ্রহী ছিলাম। এই আগ্রহই সিনেমাটি পছন্দ করার অন্যতম বড় কারণ।” সিনেমার জলমগ্ন দৃশ্যগুলোর জন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। পরিচালক কিম নিশ্চিত করেছেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা পানির নিচে অভিনয়ের জন্য স্কুবা ডাইভিং এবং সাঁতার শিখেছেন। এই দৃশ্যগুলোর কাজ একসঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলেছে।