মুক্তির পর থেকেই ‘ঘোস্টেড’ সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। জনপ্রিয় রেটিং ওয়েবসাইট রোটেন টমাটোজে এর রেটিং ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। অথচ, এই সিনেমাটিই ২০২৩ সালে মুক্তির পর অ্যাপল টিভি প্লাসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার রেকর্ড গড়ে। প্রশ্ন জাগে, সমালোচকদের এমন কঠোর সমালোচনার পরও সাধারণ দর্শক কেন সিনেমাটি লুফে নিলেন?
সাদামাটা গল্পের সরলরেখা
‘ঘোস্টেড’-এর গল্প খুবই সরলরৈখিক। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে কোল টার্নার (ক্রিস ইভান্স), যে একজন সাধারণ কৃষক এবং স্বপ্নালু প্রেমিক। এক বাজারে তার সঙ্গে দেখা হয় রহস্যময়ী আর্ট কালেক্টর সেডি রোডসের (আনা দে আরমাস)। প্রথম দেখাতেই প্রেম এবং দারুণ একটি রাত কাটানোর পর সেডি হঠাৎ উধাও হয়ে যায়—আধুনিক সম্পর্কের পরিভাষায় যা 'ঘোস্টেড' হওয়া। কাকতালীয়ভাবে সেডির ব্যাগে রয়ে যাওয়া জিপিএস-যুক্ত ইনহেলারের সূত্র ধরে কোল জানতে পারে সেডি লন্ডনে আছে। ভালোবাসার টানে লন্ডনে পাড়ি জমিয়ে কোল আবিষ্কার করে, তার স্বপ্নের নারী কোনো সাধারণ মেয়ে নয়, সে সিআইএর একজন দুর্ধর্ষ স্পাই। এরপরই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়ে তারা দুজন।
সমালোচকদের চোখে দুর্বলতা
সমালোচকদের মতে, ছবির প্রধান দুর্বলতা হলো এর চিত্রনাট্য। গল্পের মধ্যে নতুনত্ব প্রায় নেই বললেই চলে, এবং এর বহু দৃশ্য বিভিন্ন জনপ্রিয় স্পাই-মুভি থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে হয়। সরলরৈখিক এই গল্পে গভীরতা বা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার অভাব রয়েছে। এছাড়া, অস্কারজয়ী অভিনেতা অ্যাড্রিয়েন ব্রডির মতো শক্তিশালী অভিনেতাকে একটি দুর্বল খলনায়কের চরিত্রে উপস্থাপন করে তাঁর প্রতিভা নষ্ট করা হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।
দর্শক ভালোবাসার মূল মন্ত্র: তারকা-রসায়ন
সমালোচকদের এমন সমালোচনার পরও ‘ঘোস্টেড’-এর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর প্রধান দুই তারকা ক্রিস ইভান্স ও আনা দে আরমাসের অনবদ্য রসায়ন। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’-এর সুপরিচিত ইমেজ থেকে বেরিয়ে এসে ক্রিস ইভান্স এখানে একজন সাধারণ, কিছুটা আনাড়ি প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে, আনা দে আরমাস আবারও প্রমাণ করেছেন যে অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি কতটা সাবলীল ও দক্ষ। পর্দায় তাঁদের খুনসুটি, ঝগড়া এবং বিপদের মুহূর্তে একে অপরের পাশে থাকার দৃশ্যগুলোই দর্শকদের মূল বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে। এর আগে ‘নাইভস আউট’ এবং ‘দ্য গ্রে ম্যান’–এও এই জুটির রসায়ন দর্শকরা উপভোগ করেছিলেন।
পরিচালকের লক্ষ্য ও চমকপ্রদ ক্যামিও
সিনেমাটির পরিচালক ডেক্সটার ফ্লেচার গল্পের গভীরতার চেয়ে নির্ভেজাল বিনোদনের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। দ্রুতগতির অ্যাকশন, হালকা কমেডি এবং তারকা-রসায়নকে পুঁজি করে তিনি একটি নিখাদ ‘পপকর্ন মুভি’ তৈরি করেছেন। ছবির বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল বেশ কিছু চমকপ্রদ ক্যামিও। ক্রিস ইভান্সের মার্ভেল সহকর্মী অ্যান্থনি ম্যাকি, সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রায়ান রেনল্ডসের মতো তারকাদের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য ছিল বড় এক চমক। এসব বিষয় সাধারণ দর্শকের ছবিটি উপভোগ করার জন্য বাড়তি কারণ জুগিয়েছে।
‘ঘোস্টেড’ হয়তো কোনো তাক লাগানো সিনেমা নয় এবং এর গল্প হয়তো দর্শকের বেশি দিন মনেও থাকবে না। কিন্তু যাঁরা ক্রিস ইভান্স ও আনা দে আরমাসের রসায়ন উপভোগ করতে চান এবং ধুন্ধুমার অ্যাকশনের সঙ্গে কমেডির মিশেলে একটি নির্ভেজাল বিনোদন খুঁজছেন, তাঁদের এই সিনেমা হতাশ করবে না।