আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পুনর্নির্ধারণ করা সীমানা অনুযায়ীই এই আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ (Appellate Division)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আগের আদেশ স্থগিত করে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশনা ও নতুন সীমানা
আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেট (Gazette) অনুযায়ী কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা বৈধতা পেল। নতুন এই বিন্যাস অনুযায়ী, হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন গঠিত হবে। অন্যদিকে, এই আসন থেকে বাদ পড়া মেঘনা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে কুমিল্লা-১ আসনের সঙ্গে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই নতুন সীমানার ভিত্তিতেই ভোট গ্রহণ করা হবে।
হাইকোর্টের রায় ও আইনি প্রেক্ষাপট
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা পরিবর্তন সংক্রান্ত ইসির গেজেটটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। একইসঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসনটির সীমানা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় সীমানা পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট পিটিশন (Writ Petition) দাখিল করেছিলেন আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলম।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (Leave to Appeal) দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে ইসির সিদ্ধান্তকে সমুন্নত রাখার আদেশ দেন।
আদালতে যুক্তিতর্ক
এদিন আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং ব্যারিস্টার সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। ইসির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রশাসনিক সুবিধা এবং ভোটার সংখ্যার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই ডিলিমিটেশন (Delimitation) বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব
কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা নিয়ে এই আইনি লড়াই রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মেঘনা উপজেলাকে সরিয়ে হোমনা উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করায় আসনটির ভোটার বিন্যাস এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পরিচিত নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক পরিবর্তন প্রার্থীদের প্রচার কৌশলেও প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগের আজকের এই রায়ের মাধ্যমে এই বিতর্কের অবসান ঘটল।