• প্রযুক্তি
  • চন্দ্রবিজয়ের নতুন দিগন্ত: ৫৩ বছর পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা, চূড়ান্ত প্রস্তুতি ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের

চন্দ্রবিজয়ের নতুন দিগন্ত: ৫৩ বছর পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা, চূড়ান্ত প্রস্তুতি ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
চন্দ্রবিজয়ের নতুন দিগন্ত: ৫৩ বছর পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা, চূড়ান্ত প্রস্তুতি ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মহাশূন্যে পাড়ি দিচ্ছে নাসার মেগা রকেট এসএলএস; মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলকের অপেক্ষায় বিশ্ব।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদের বুকে মানব উপস্থিতির স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক 'অ্যাপোলো' (Apollo) মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান চন্দ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন ইতিহাস লিখতে যাচ্ছে ‘আর্টেমিস-২’ (Artemis-II) মিশন।

বিবিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাকাশযাত্রার এই মাহেন্দ্রক্ষণ ঘিরে বর্তমানে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে সাজসাজ রব।

প্যাড অভিমুখে নাসার মেগা রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুল

অভিযানের অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নাসা তাদের বিশালাকার 'স্পেস লঞ্চ সিস্টেম' বা এসএলএস (Space Launch System - SLS) চন্দ্র রকেট এবং 'ওরিয়ন' (Orion) স্পেস ক্যাপসুলকে ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং (VAB) থেকে উৎক্ষেপণ প্যাডের (Launch Pad) দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। প্রায় চার মাইলের এই যাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছে দানবীয় যান্ত্রিক বাহন ‘ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার-২’। এই ধীরগতির কিন্তু শক্তিশালী স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। উৎক্ষেপণ প্যাডে পৌঁছানোর পর প্রকৌশলীরা রকেটে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জ্বালানি সরবরাহ লাইন যুক্ত করার কাজ শুরু করবেন।

কারিগরি পরীক্ষা: ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’

জানুয়ারির শেষ দিকে নাসা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহড়া চালাবে, যাকে কারিগরি ভাষায় বলা হয় ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ (Wet Dress Rehearsal)। এই পরীক্ষায় রকেটে প্রকৃত জ্বালানি ভরে উৎক্ষেপণের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সমস্ত ধাপগুলো যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে পুনরায় সংস্কারের জন্য রকেটটিকে ভিএবি-তে (VAB) ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে মহড়া সফল হলে ৬ ফেব্রুয়ারিকেই সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

লুনার উইন্ডো: কেন নির্দিষ্ট সময়েই উৎক্ষেপণ জরুরি?

মহাকাশ বিজ্ঞানে রকেট প্রস্তুত থাকলেই যে কোনো সময় উড্ডয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য চাঁদের অবস্থান বা ‘লুনার উইন্ডো’ (Lunar Window) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাসা জানিয়েছে, প্রতি মাসে মাত্র এক সপ্তাহের মতো এমন সুযোগ আসে যখন রকেটটি সঠিক কক্ষপথের দিকে লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা যায়। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির ৬, ৭, ৮, ১০ ও ১১ তারিখকে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া বা কারিগরি কারণে দেরি হলে মার্চ বা এপ্রিল মাসেও ব্যাকআপ (Backup) তারিখ রাখা হয়েছে।

অভিযাত্রী দল: মহাকাশে নতুন ইতিহাস গড়বেন যারা

আর্টেমিস-২ মিশনের চার সদস্যের ক্রু (Crew) তালিকায় রয়েছেন নাসার অভিজ্ঞ কমান্ডার রিড ভাইসমান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কখ। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির (CSA) নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এই প্রথম এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে কোনো মানুষ মহাশূন্যে পাড়ি দিতে যাচ্ছে।

১০ দিনের এই মিশনে নভোচারীরা মহাকাশের এমন গভীর অঞ্চলে (Deep Space) পৌঁছাবেন, যেখানে ইতিপূর্বে কোনো মানুষ পদার্পণ করেনি। কক্ষপথে পৌঁছানোর পর তারা ওরিয়ন মহাকাশযানের নেভিগেশন (Navigation) এবং লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম (Life Support System) পরীক্ষা করবেন। পৃথিবীতে ফেরার সময় তারা প্রশান্ত মহাসাগরে ল্যান্ড করবেন।

আর্টেমিস-৩ মিশনের ভিত্তিপ্রস্তর

এই মিশনের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস-৩’ মিশন, যার লক্ষ্য সরাসরি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (Lunar South Pole) মানুষ নামানো। নাসা জানিয়েছে, ২০২৭ বা ২০২৮ সালের আগে চাঁদে অবতরণ সম্ভব না হলেও আর্টেমিস-২ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর প্রথম ধাপ। ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের জন্য এলন মাস্কের স্পেস-এক্স (SpaceX) স্টারশিপ ল্যান্ডার অথবা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন (Blue Origin) মহাকাশযান ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানের এই নতুন নবজাগরণ কেবল বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান নয়, বরং মানব সভ্যতার জন্য ভিনগ্রহে বসতি গড়ার প্রাথমিক সোপান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags: space news space exploration nasa artemis moon mission sls rocket orion capsule lunar landing deep space human flight space technology