• বিনোদন
  • শিল্পীদের সম্মান দিতে হবে: অভিনেত্রী আইনুন পুতুল

শিল্পীদের সম্মান দিতে হবে: অভিনেত্রী আইনুন পুতুল

অভিনেত্রী আইনুন পুতুল তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজের স্মৃতি এবং শুটিং সেটে শিল্পীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে কথা বললেন।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
শিল্পীদের সম্মান দিতে হবে: অভিনেত্রী আইনুন পুতুল

মঞ্চের আলো থেকে নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের পর্দা ছুঁয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আইনুন পুতুল নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০০৬ সালে 'ঘাটের কথা' নাটকে কুসুম চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রে অভিনয় এবং 'ঘেটুপুত্র কমলা'সহ নানা উল্লেখযোগ্য কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সংগ্রাম, কাজের অভিজ্ঞতা এবং শুটিং সেটে শিল্পীদের প্রতি আচরণের বৈষম্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

অভিনয় জীবনের শুরু ও উত্থান আইনুন পুতুলের অভিনয় জীবনের সূচনা হয় ২০০৬ সালে। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি শোবিজ অঙ্গনে কাজ করছেন। তার প্রথম কাজ ছিল সেলিম আল দীন স্যারের সঙ্গে 'ঘাটের কথা' নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা, যা তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মফস্বল থেকে উঠে আসা একজন শিক্ষার্থীর কাজ টিভিতে দেখানো তার কাছে বিশাল প্রাপ্তি ছিল। তিনি জানান, শুরুর সময়টা ছিল খুবই চমৎকার এবং উদ্দীপক।

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি জনপ্রিয় লেখক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের বেশ কিছু নাটক ও সিনেমায় কাজ করাকে পুতুল তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নিজেকে 'লাকি' মনে করেন এই কারণে যে তিনি স্যারের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছেন। তবে হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে কাজ করতে না পারার অপূর্ণতার কথাও জানান তিনি। ২০০৬ সালে 'জহির কারিগর' নাটকের জন্য ১৪০০ মেয়ের মধ্য থেকে প্রথম হয়ে তিনি হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। পুতুলকে স্যার স্নেহ করতেন এবং একটি বিশেষ নামও দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শুটিং সেটে স্যার একদম বাচ্চা মানুষের মতো হয়ে যেতেন, ইনস্ট্যান্ট ডায়ালগ লিখতেন এবং ডিরেকশন দিতেন। 'ঘেটুপুত্র কমলা' সিনেমায় সুনামগঞ্জে দীর্ঘদিনের কাজসহ স্যারের সঙ্গে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল এককথায় অসাধারণ।

মঞ্চ ও শিক্ষার প্রভাব থিয়েটারই তাকে আজকের অবস্থানে আসতে পুরোপুরি সাহায্য করেছে। ছোটবেলায় থিয়েটার করার আগ্রহ থেকেই তিনি বড় ভাইয়ের পরামর্শে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'নাটক ও নাট্যতত্ত্ব' বিভাগে লেখাপড়া করেন। নাটক নিয়ে যে লেখাপড়া করা যায়, তা তার জানা ছিল না। বান্ধবী তৃণার সহায়তায় জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হওয়াকে তিনি আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

শুটিং সেটে খাবার বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুটিং সেটে খাবার বৈষম্য নিয়ে পোস্ট করার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে প্রোডাকশনে কাজ করা মানুষ, জুনিয়র শিল্পী এবং সিনিয়র শিল্পীদের জন্য দুই থেকে তিন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সিনিয়র শিল্পীরা সিলড পানির বোতল পেলেও, জুনিয়র শিল্পীদের ট্যাব থেকে খোলা বোতলে পানি পান করতে হয়। তার মতে, এই বৈষম্য খুবই দৃষ্টিকটু। কোনো সিনিয়র শিল্পীকে স্পেশাল খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হলে তা গোপনে দেওয়া উচিত। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “শিল্পী তো শিল্পীই। তিনি হোক জুনিয়র বা সিনিয়র। শিল্পীদের সম্মান দিতে হবে।”

তরুণ শিল্পীদের প্রতি বার্তা অভিনয় জগতে প্রায় দুই দশক পার করে আসা আইনুন পুতুল বর্তমানের তরুণ শিল্পীদের অনেক ট্যালেন্টেড বলে প্রশংসা করেন। তাদের দ্রুত সফলতা অর্জন দেখে তিনি আনন্দিত। তিনি জানান, তাদের সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা এতগুলো কাজের প্ল্যাটফর্ম না থাকায় সফলতা আসতে দেরি হতো। বর্তমান নবাগতদের দ্রুত অগ্রগতিকে তিনি ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন।

Tags: bangladeshi actress humayun ahmed theatre ainun putul ghetuputra komola shooting set discrimination bengali entertainment kalbela interview