৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
গণফ্রন্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ‘মাছ’ প্রতীকের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা অভিযোগে মোট চারজন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্ত প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহ্ আলম বকশী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রুহুল আমীন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমারাত হোসেইন খান।
পোস্টারিং ও জনসভা নিয়ে বিধিলঙ্ঘনের দাবি
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সভা-সমাবেশ, ভোট প্রার্থনা এবং পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০ জানুয়ারি চান্দনা চৌরাস্তার একটি কনভেনশন হলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আড়ালে নির্বাচনী জনসভা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই অনুষ্ঠানে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা আচরণবিধির পরিপন্থী।
এছাড়াও, অন্য চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধামালায় নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আসনের বিভিন্ন এলাকায় দেয়াল ও গণপরিবহনে বিপুলসংখ্যক রঙিন পোস্টার সাঁটিয়ে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। আবেদনকারী উল্লেখ করেন, এসব পোস্টার এখনো বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমান রয়েছে।
আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের দাবি
অভিযোগকারী আতিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু গাজীপুর–১ আসনে কয়েকজন প্রার্থী প্রকাশ্যেই এসব বিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী এসব লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। তাই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন। অভিযোগের সমর্থনে ছবি ও ভিডিও প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট অনলাইন লিংকও আবেদনপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারের মন্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। অভিযোগের কপি তার হাতে পৌঁছায়নি।