ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার জনতাত্ত্বিক বিন্যাস ও ভোটার তালিকায় বড় ধরনের রদবদলের অভিযোগ তুলেছেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই আসনে ‘অস্বাভাবিক’ হারে বিপুল সংখ্যক ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন তিনি।
‘বহিরাগত’ ভোটার ও রহস্যময় স্থানান্তর
ইশরাক হোসেনের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাকা-৬ আসনে ভোটার স্থানান্তরের যে প্রক্রিয়া চলেছে, তা সাধারণ কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটার এই আসনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইশরাকের ভাষ্যমতে, “অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের এক মাস পার না হতেই দেখা যাচ্ছে, এসব বহিরাগত ভোটারের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে ওই আসন ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেছে।” এই দ্রুত মুভমেন্ট বা ‘ভোটার মাইগ্রেশন’ প্রক্রিয়াটি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ঘোষণা
অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হননি ইশরাক; তিনি জানান এই ভোটার স্থানান্তরের পেছনে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই (Verification) শেষে বিষয়টি নিয়ে দলের হাইকমান্ডের কাছে একটি বিশদ রিপোর্ট (Report) জমা দেওয়া হবে। ইশরাক আরও জানান, সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণগুলো কেবল দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা জনসম্মুখে প্রকাশ করে একটি ‘পাবলিক ডিসক্লোজার’ (Public Disclosure) তৈরি করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বাচনী কারচুপির আগাম সংকেত সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও জামায়াত প্রসঙ্গ
এই ভোটার স্থানান্তরের নেপথ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি ধারণা প্রকাশ করেন যে, ঢাকাকে কেন্দ্র করে ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছিল। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ঢাকা-৬ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘কনস্টিটুয়েন্সি’ (Constituency)-কে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছে, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জনমনে উদ্বেগ
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে, সেখানে ইশরাক হোসেনের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ভোটার তালিকার এই ‘অস্বাভাবিক’ পরিবর্তন যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনী স্বচ্ছতার (Electoral Transparency) ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস বা নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো তদন্ত শুরু করবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।