ফরিদপুর বিভাগীয় এনসিপি আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো বিশেষ দিবসের দোহাই দিয়ে খুনিদের পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত করা যাবে না।
সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক দাবি সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাজ নিয়ে তিনি বলেন, আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিএনপিকে কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি এই প্রক্রিয়াগুলোতে বিচ্যুতি ঘটে, তবে এগারো দল ও জাতীয় নাগরিক পার্টি নতুন করে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
সারজিস আলমের বক্তব্য ও শিক্ষা সংস্কার অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, তরুণ প্রজন্ম একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখে। এই স্বপ্ন পূরণে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি দ্রুত শিক্ষা সংস্কার আইন প্রণয়ন এবং দেশের কলেজগুলোতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ (ডাকসু আদলে) নির্বাচনের জোর দাবি জানান।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস মোল্লা, জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা মো. বদরুদ্দিনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।