পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত ও সংযমের আবহে ঝিনাইদহে রাজনৈতিক সহিংসতার এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নামধারী একদল কর্মীর বিরুদ্ধে এই বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ তুলেছে দলটি।
ইফতারের আগমুহূর্তে ত্রাস: কী ঘটেছিল গান্না ইউনিয়নে? গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে স্থানীয় মহিলা জামায়াত এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মপ্রাণ নারীরা যখন ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৈশাচিক হামলা চালায়। অতর্কিত এই হামলায় উপস্থিত নারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
আহতদের অবস্থা ও হাসপাতালে চিকিৎসা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় কেবল মহিলারা নন, বরং তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসা কয়েকজন পুরুষ কর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন। নূরুন্নিসা সিদ্দীকা তার বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, "ইফতারের আগমুহূর্তে যখন মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে মগ্ন, তখন মা-বোনদের ওপর এমন নৃশংস হামলা প্রমাণ করে যে, হামলাকারীদের ন্যূনতম ধর্মীয় বা মানবিক বোধ নেই।"
নারী নিরাপত্তা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে প্রশ্ন বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের নারী উন্নয়ন নীতিমালা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করা হয়। জামায়াত নেত্রী বলেন, "একদিকে সরকার ‘Women Empowerment’ বা নারীর ক্ষমতায়নের গালভরা বুলি আউড়াচ্ছে এবং ভোটের রাজনীতিতে ‘Family Card’ বিতরণের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজপথে ও ঘরে নারীদের জীবন আজ চরম অনিরাপদ। এই পৈশাচিক হামলা ও নির্যাতন প্রমাণ করে যে, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা আজ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।" তিনি দাবি করেন, লৌকিকতার আড়ালে সাধারণ মানুষের সম্মান ও জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান ও বিচার দাবি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। একই সাথে তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক কর্মীদের এই লাগামহীন উগ্রতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিবৃতির শেষাংশে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "জনগণের অধিকার আদায়ের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কোনো অপশক্তির ভয়ে দমে যাবে না।" তিনি আহতদের দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করেন এবং দেশের সকল শান্তিকামী মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এই হামলার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী