ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে বহুল আলোচিত 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' (Constitution Reform Council) নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণে সংসদীয় আলোচনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধীরা। রোববার (১৫ মার্চ) সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরুর আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংসদীয় আলোচনার অপেক্ষায় বিরোধী দল সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা সংস্কারের বিষয়ে বিরোধী দলের কৌশল সম্পর্কে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, "আজকের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলবে। সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামী এই বিতর্কে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আমরা হুটহাট কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী হাউসে বিস্তারিত আলোচনার পরেই বিরোধী দল তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা দেশবাসীকে জানাবে।"
অধিবেশনের সময়সীমা ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ রোববার বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) কার্য উপদেষ্টা কমিটির (Advisory Committee) প্রথম বৈঠকে স্থির হয়েছে যে, বর্তমান অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে। সরকারি ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে প্রতিদিন বিকেল ৩টায় বসবে সংসদের বৈঠক। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের ওপর দীর্ঘ ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটি সংসদীয় গণতন্ত্রে আইনের শাসন সুসংহত করতে এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে সংসদ। অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ (Ordinance) পর্যালোচনার জন্য আলাদা একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের নাড়ি-নক্ষত্র পরীক্ষা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাহী আদেশে জারিকৃত আইনগুলো সংসদীয় বৈধতা বা পরিমার্জনের সুযোগ পাবে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন পথচলা গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ওপর জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার এবং রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল যেভাবে সরাসরি সিদ্ধান্তের পথে না গিয়ে আগে সংসদে গঠনমূলক আলোচনার কথা বলছে, তা সংসদীয় গণতন্ত্রের (Parliamentary Democracy) জন্য এক ইতিবাচক সংকেত।
আজকের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব (Question-Answer Session) থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়েই বিরোধীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সংসদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।