সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলোকে রিস্টাবলিশ করেছি। আমাদের প্রত্যেকটি বেজলাইন হচ্ছে ডিগ্রি। স্নাতক, যেটা আমরা গ্র্যাজুয়েশন লেভেল বলি।”
তবে আগের মতো জনপ্রতিনিধিদের ফেরানো হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি শিক্ষামন্ত্রী।
তার আগে এমপিদের ‘আপত্তির মুখে’ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির প্রবিধান মালা সংশোধন করে সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘পরির্ব্তনের বিষয়ে’ আলোচনা শুরু করে শিক্ষা প্রশাসন।
গেল ১০ মার্চ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভায় বিদ্যমান প্রবিধানমালা সংশোধন নিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী।
আগের মতই জনপ্রতিনিধিদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ চাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।
ছয় মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের সভাপতি পদে মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা সংশোধন করে বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বেসরকারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।
এর আগের প্রবিধানমালায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তি বা সমাজসেবকদের মধ্যে থেকে তিনজনের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান ছিল।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংশোধিত প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে নবম গ্রেডের নিচের নয়, এমন সরকারি কর্মকর্তা, পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয়, এমন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, এমবিবিএস বা প্রকৌশল বা কৃষিসহ যে কোনো কারিগরি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিসহ নবম গ্রেডের নিচে না, এমন কর্মকর্তা বা পঞ্চম গ্রেডের নিচে না এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান সংযোজন করা হয়।
সব ক্ষেত্রেই সভাপতি পদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করা হচ্ছে তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “তারপরে কমিটি যেভাবে ফরমেশন সিস্টেম রয়েছে, সেই ফরমেশন সিস্টেমে আমরা আসছি।”
পরে এক প্রশ্নে এহছানুল হক মিলন বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উচ্চমাধ্যমিক কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান হওয়া বা গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট হওয়ার বেজলাইন হচ্ছে স্নাতক। এরপরেও অনেক কিছু আমরা দেখব।”