ঢাকার উত্তরায় রিকশাচালককে ‘হত্যার গুজব ছড়িয়ে’ একটি বিপণী বিতানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানায় পুলিশের করা মামলায় নাম না জানা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাজী রফিক আহমেদ।
তিনি বলেন, “আমরা মার্কেটের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ব্যবসায়ীদের তরফে আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে, বলেন তিনি।
রোববার রাতে ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দফায় দফায় হামলা চালায়।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মার্কেটের সামনে একটি রিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে।
রিকশা থামিয়ে রাখলে সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী রিকশাচালককে চলে যেতে বলেন। রিকশাচালক না গেল তার রিকশার পিছনে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারেন নিরাপত্তাকর্মী।
এরপর একাধিক রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা সেখানে হট্টগোল করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকাবাসী ও রিকশাচালকরা মিলে ‘মব’ সৃষ্টি করে।
এরমধ্যে এক ‘রিকশা চালককে হত্যার গুজব ছড়িয়ে’ দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
ওসি কাজী রফিক আহমেদ বলেন, “রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ভুয়া। মব সৃষ্টি করে শপিং মলের মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।”
ঘটনার পর সোমবার ওই বিপণী বিতানের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এদিন ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নজরুল ইসলাম।
এ সময় তিনিও বলেন, “রিকশাচালককে মারধর করে শপিংমলের ভেতরে বেঁধে রাখার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
সংঘর্ষের সময় হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।