ঐতিহ্যের টানে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত প্রাঙ্গণে প্রতি বছরের মতো এবারও বারুণী স্নান উপলক্ষে ব্যাপক সমাগম ঘটে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর ৬টা থেকেই মাধবেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করতে শুরু করেন হাজার হাজার ভক্ত। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় মূল স্নান উৎসব। মাধবকুণ্ড মাধবেশ্বর মন্দির পরিচালনা কমিটির তথ্যমতে, এবার লক্ষাধিক পুণ্যার্থী এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন।
ধর্মীয় রীতি ও প্রাচীন ঐতিহ্য
প্রাচীন আমল থেকেই মাধবকুণ্ডে এই পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পুণ্যার্থীরা জলপ্রপাতের শীতল জলে স্নান সেরে মাধবেশ্বর মন্দিরে পূজা দেন। কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রঞ্জিত কুমার পাল জানান, এক সময় এখানে স্নান শেষে সন্ন্যাসী ও বৈষ্ণবদের চাল দান করার প্রথা ছিল, যা আজও ভক্তিভরে পালন করছেন ভক্তরা। স্নান শেষে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ ও বিশেষ প্রার্থনা করেন পুণ্যার্থীরা।
মেলা ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা
বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে মাধবকুণ্ড এলাকায় বসেছে বিশাল গ্রাম্য মেলা। এই মেলাটি কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয়দের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। উৎসবে আগতদের জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ মহাপ্রসাদেরও ব্যবস্থা করা হয়।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা
বিশাল এই জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুপুর ১২টায় উৎসব এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক তীর্থস্থান এবং এর উন্নয়নে সরকার পাশে আছে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, ভক্তদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার সদস্যরা নিরলস কাজ করেছেন। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।