• আন্তর্জাতিক
  • টানা ৯ বছর বিশ্বের সবচেয়ে ‘সুখী’ দেশ ফিনল্যান্ড; তলানিতে থাকা বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ কোথায়?

টানা ৯ বছর বিশ্বের সবচেয়ে ‘সুখী’ দেশ ফিনল্যান্ড; তলানিতে থাকা বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ কোথায়?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
টানা ৯ বছর বিশ্বের সবচেয়ে ‘সুখী’ দেশ ফিনল্যান্ড; তলানিতে থাকা বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ কোথায়?

সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি আস্থায় অনন্য উচ্চতায় উত্তর ইউরোপ, তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে তরুণ প্রজন্মের সুখ কেড়ে নিচ্ছে বিষণ্নতা—বলছে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬।

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মুকুট আবারও নিজের দখলেই রাখল উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ (World Happiness Report) অনুযায়ী, টানা ৯ বছর ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে নর্ডিক এই রাষ্ট্রটি। মূলত নাগরিকদের পারস্পরিক সুগভীর আস্থা, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net) এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন ফিনল্যান্ডকে এই গৌরবের অধিকারী করেছে।

সুখের সংজ্ঞায় কেন অনন্য ফিনল্যান্ড?

একটি দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান কেবল মাথাপিছু আয় দিয়ে পরিমাপ করা যায় না—এই ধারণাকেই বারবার সত্য প্রমাণ করছে ফিনল্যান্ড। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা (Quality Education) এবং দুর্নীতির অনুপস্থিতি নাগরিকদের মধ্যে সরকারের প্রতি উচ্চপর্যায়ের আস্থা (Public Trust) তৈরি করেছে। এছাড়া, ফিনিশদের জীবনযাত্রার ভারসাম্য (Work-Life Balance) এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাদের মানসিক প্রশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সুখী হওয়ার পেছনে কোনো জাদুকরী রহস্য নেই। তবে একটি সমাজ যদি স্বাধীনতা, সমতা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক স্তম্ভগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সেই সমাজই সবচেয়ে বেশি সুখের সন্ধান পায়।”

নর্ডিক দেশগুলোর দাপট ও শীর্ষ ১০-এর চিত্র

২০২৬ সালের তালিকায় বরাবরের মতোই নর্ডিক (Nordic) দেশগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে। ফিনল্যান্ডের ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে ক্রমান্বয়ে রয়েছে আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস। শীর্ষ দশে আরও জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরাইল ও কোস্টারিকা। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রকাঠামো এই দেশগুলোকে বৈশ্বিক মানচিত্রে ‘সুখের স্বর্গ’ হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।

বেকারত্ব বনাম সুখ: ফিনল্যান্ডের বিচিত্র সমীকরণ

সম্প্রতি ইউরোস্ট্যাটের (Eurostat) এক রিপোর্টে দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হারেও ফিনল্যান্ড বেশ ওপরের দিকে। তবে হ্যাপিনেস রিপোর্টে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিনল্যান্ডের শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো যে, একজন নাগরিক কর্মহীন থাকলেও তার মৌলিক চাহিদা বা জীবনযাত্রার মান (Standard of Living) ক্ষুণ্ণ হয় না। ফলে আর্থিক অনিশ্চয়তা তাদের সামগ্রিক সুখে বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারছে না।

তরুণ প্রজন্মের সুখ কেড়ে নিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া!

এবারের রিপোর্টে একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে—বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে সুখের মাত্রা ক্রমেই কমছে। প্রতিবেদনে এর অন্যতম কারণ হিসেবে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ (Social Media)-র অতিরিক্ত ব্যবহার ও ডিজিটাল আসক্তিকে দায়ী করা হয়েছে। ভার্চুয়াল জগতের কৃত্রিম প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) অবনতি ঘটাচ্ছে, যা বৈশ্বিক হ্যাপিনেস ইনডেক্সে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের অবস্থান

সুখী দেশের এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট বরাবরের মতোই ম্লান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং ১৩০-এর কাছাকাছি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) দৃশ্যমান হলেও সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকদের মানসিক সুস্থতার মতো সূচকগুলোতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করতে না পারলে এই তালিকায় বাংলাদেশের বড় ধরনের উত্তরণ ঘটা বেশ কঠিন।

Tags: public trust mental health social security happiness report finland news bangladesh rank world rankings global wellbeing nordic model social media influence