ব্রাজিলীয় ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়র কি তবে যুগের অবসানের দ্বারপ্রান্তে? আসন্ন মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডো (March Window) সামনে রেখে ঘোষিত ব্রাজিল স্কোয়াডে জায়গা হয়নি এই মহাতারকার। দীর্ঘদিনের নিরবতা ভেঙে অবশেষে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় নেইমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলে নিজের সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে কাউকে আর কিছু প্রমাণ করার নেই তার।
আনচেলত্তির ‘কঠোর’ সিদ্ধান্তে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের খোলনলচে বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচের আগে স্কোয়াড সাজাতে গিয়ে তিনি রীতিমতো উপেক্ষা করেছেন নেইমারকে। মূলত খেলোয়াড়দের বর্তমান ‘ম্যাচ ফিটনেস’ (Match Fitness) এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে (Performance Analysis) প্রাধান্য দিতে গিয়েই নেইমারকে বাতিলের খাতায় রেখেছেন সেলেসাও বস।
২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যায়নি নেইমারকে। দীর্ঘ ইনজুরি আর মাঠের বাইরের সময় তাকে দলের মূল পরিকল্পনা থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
‘আমি ১০ বছর আগের নেইমার নই’
দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে সিবিএফ (CBF) ম্যানেজমেন্টের প্রতি কিছুটা অভিমান ঝরল নেইমারের কণ্ঠে। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “কাউকে কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন আমার নেই। আমি অত্যন্ত সম্মানের সাথেই বলছি, পুরো বিশ্ব জানে আমি কে। চাইলে তারা আমার পুরোনো ম্যাচগুলো বা অনুশীলন সেশন (Training Session) দেখতে পারে। আমি জানি আমি ১০ বছর আগের সেই তরুণ নেইমার নই, এখন সবকিছু আলাদা। আমি আমার খেলার ধরন এমনভাবে উন্নত করেছি যা দলের জন্য প্রয়োজনীয়। মাঠে আমার প্রভাব কতটা, সেটা আমার অজানা নয়।”
নেইমারের এই আত্মবিশ্বাসী সুর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি ফুরিয়ে যাননি, বরং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে নিজেকে নতুনভাবে আবিস্কার করেছেন।
বিশ্বকাপের ‘লাস্ট ড্যান্স’ ও শেষ আকুতি
নেইমারের ক্যারিয়ারের মধ্যগগন বারবার ইনজুরির কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে। তবুও বারবার ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন তিনি। এবারের লড়াইটা আরও বেশি আবেগের, কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ আসর।
নেইমার যোগ করেন, “জাতীয় দলে এটাই আমার শেষ বছর কি না জানি না, তবে শেষটা খুব কাছে চলে এসেছে। আগে সবসময় জানতাম পরবর্তী স্কোয়াডে (Next Squad) আমি থাকবই, কিন্তু এবারই প্রথম অনিশ্চয়তায় ভুগছি। তবুও আমি অবশ্যই বিশ্বকাপে যেতে চাই। সেই অনুপ্রেরণাই আমাকে প্রতিদিন লড়াই করতে সাহায্য করে।”
শেষ সুযোগ কি এখনো আছে?
আনচেলত্তির বর্তমান স্কোয়াডে জায়গা না হলেও নেইমারের জন্য দরজা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (CBF) আগামী ১৮ মে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবে। এর মধ্যে যদি নেইমার নিজেকে পুরোপুরি ফিট (Fully Fit) প্রমাণ করতে পারেন এবং ক্লাব ফুটবলে ছন্দে ফেরেন, তবে তাকে উপেক্ষা করা সিবিএফ-এর জন্য কঠিন হবে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—নেইমার কি পারবেন তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাতে, নাকি আধুনিক ফুটবলের গতি আর ট্যাকটিকসের (Tactics) কাছে হার মেনে বিদায় নেবেন নিরবে?