ভারতের ক্রিকেটাঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবার আইনি লড়াইয়ে নামলেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিশাল অঙ্কের মানহানির মামলা করেছেন তিনি।
বানোয়াট ভিডিও ও এআই-এর অপব্যবহার মামলার প্রধান কারণ হিসেবে গম্ভীর উল্লেখ করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তার কণ্ঠ ও ছবি বিকৃত করে বানোয়াট ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে দেখা যায়, যা সামাজিক মাধ্যমে ২৯ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে তার নামে মিথ্যা মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে, যার ভিউ ১৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গম্ভীর দাবি করেন, তিনি এই ধরনের কোনো মন্তব্য কখনো করেননি।
বাণিজ্যিক ক্ষতি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গম্ভীরের অভিযোগে ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ছাড়াও অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্টের মতো ই-কমার্স সাইট রয়েছে, যারা অনুমতি ছাড়াই গম্ভীরের নাম ও ছবি ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছিল। এছাড়া মেটা, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং গুগলের মতো প্রযুক্তি সংস্থাকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবি গম্ভীর কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণই চাননি, বরং ভবিষ্যতে যেন কেউ তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে কোনো ভুল তথ্য বা পণ্য প্রচার করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। ভারতীয় মুদ্রায় আড়াই কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার সমান।
কোচ হিসেবে সফল গম্ভীর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারতের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর গৌতম গম্ভীরের অধীনে দল ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করেছে। ক্রিকেটার হিসেবেও তিনি ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দলের ভরাডুবি হলেও কোচ হিসেবে তার সফলতার ঝুলিতে অনেক অর্জন রয়েছে।