আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই শুরু জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংগঠনের তৃণমূল কমিটিকে প্রতিটি পদের বিপরীতে অন্তত তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্যানেল তৈরির কাজ চলছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে।
আমিরের বিশেষ নির্দেশনা ও রাজনৈতিক কৌশল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সারা দেশের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো লুকানো পথে নয়, বরং সুসংগঠিত রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমেই জামায়াত আগামী দিনের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকেই প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন।
জোটের বদলে একক পথ কেন? নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক দলই এরইমধ্যে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা শুরু করেছে। তাই জোটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকে সময় নষ্ট না করে জামায়াত নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর দলটি স্থানীয় পর্যায়েও তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে চায়।
লক্ষ্য সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, প্রতিটি এলাকায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় নিজেদের প্রভাব নিশ্চিত করাই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য।