• আন্তর্জাতিক
  • কোরিয়ায় অটোপার্টস কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ ১৪, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ২৪ শ্রমিক

কোরিয়ায় অটোপার্টস কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ ১৪, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ২৪ শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কোরিয়ায় অটোপার্টস কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ ১৪, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ২৪ শ্রমিক

দক্ষিণ কোরিয়ার দেজন শহরে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে আহত অন্তত ৫৫; বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক বিস্ফোরণের আশঙ্কায় থমথমে উদ্ধার অভিযান।

দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী দেজন (Daejeon) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হলো। শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয় একটি অটোপার্টস (Auto Parts) উৎপাদনকারী কারখানায় লাগা বিধ্বংসী আগুনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জন শ্রমিকের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

অগ্নিগর্ভ শিল্পনগরী: মুহূর্তেই ছাই দেজনের অটোপার্টস কারখানা শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৭ মিনিটের দিকে দেজনের দেদিয়োক-গু এলাকার মুনপিয়ং-দংয়ে অবস্থিত বিশাল এই কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থ ও যন্ত্রাংশের কারণে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দূর থেকেও আকাশচুম্বী কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল।

জীবন বাঁচাতে বহুতল থেকে ঝাঁপ, নিখোঁজদের সন্ধানে রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি ঘটনার সময় কারখানাটিতে প্রায় ১৭০ জন শ্রমিক দায়িত্বরত ছিলেন। আগুন লাগার পর আতঙ্কিত শ্রমিকরা প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাঁচার কোনো পথ না পেয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক বহুতল ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। আহত ৫৫ জনের মধ্যে অনেকেই এই পতনজনিত কারণে এবং বিষাক্ত গ্যাস (Toxic Gas) গ্রহণের ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজ ১৪ জনের হদিস পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে দমকল বাহিনী, তবে আগুনের উত্তাপ ও ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

রাসায়নিক বিস্ফোরণের ঝুঁকি ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারখানায় মজুত থাকা প্রায় ২০০ কেজি সোডিয়াম (Sodium)। রাসায়নিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আগুনের সংস্পর্শে এলে এই সোডিয়াম থেকে বিশাল বিস্ফোরণ (Explosion Risk) ঘটতে পারে। এছাড়া কারখানার মূল কাঠামোটি প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড (Prefabricated Structure) হওয়ার কারণে তা যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ভেতরে প্রবেশ করে নিখোঁজদের সন্ধান চালানো দমকলকর্মীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুটি সংযুক্ত ভবনের একটি ইতিমধ্যেই পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা ও উদ্ধার তৎপরতা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ‘Phase-1’ এবং পরে দ্রুততম সময়ে ‘Phase-2’ অগ্নি সতর্কতা জারি করে। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দেশজুড়ে ‘Emergency Deployment’ বা জরুরি অগ্নিনির্বাপণ মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ৯০টিরও বেশি বিশেষায়িত গাড়ি, প্রায় ২০০ জন দমকলকর্মী এবং কোরিয়া ফরেস্ট সার্ভিসের একটি হেলিকপ্টার কাজ করছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধার এবং গুরুতর আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।

Tags: toxic gas south korea emergency response factory fire industrial accident daejeon news missing workers auto parts