দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সৌহার্দ্যের নতুন বার্তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক দীর্ঘ ফোনালাপে দুই শীর্ষ নেতা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কেবল উৎসবের আনুষ্ঠানিকতাই নয়, এই আলাপনে উঠে এসেছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সব দিক।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক বন্ধন ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও পারিবারিক সম্পর্কের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার এই আত্মিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানান তিনি। বিশেষ করে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘Bilateral Cooperation’ বা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন শেহবাজ শরিফ।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট ফোনালাপে কেবল দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক ‘Regional Development’ বা আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গভীর মতবিনিময় হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান ও শেহবাজ শরিফ। তারা একমত হন যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনে ‘Dialogue’ (সংলাপ) এবং ‘Diplomacy’ (কূটনীতি)-ই হলো একমাত্র সঠিক পথ। রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর তারা বিশেষভাবে জোর দেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও ‘Stability’ বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একযোগে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই ব্যক্তিগত যোগাযোগ দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে।
শুভেচ্ছা বিনিময় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একে অপরের দেশের জনগণের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। উৎসবের এই আবহে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এমন ‘Constructive Engagement’ বা গঠনমূলক অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।