• আন্তর্জাতিক
  • হরমুজ প্রণালি পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার ফি নিচ্ছে ইরান

হরমুজ প্রণালি পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার ফি নিচ্ছে ইরান

লয়েডস লিস্টের দাবি অনুযায়ী, তেলের ট্যাঙ্কার থেকে চড়া ফি আদায় করছে তেহরান; আটকা পড়েছে হাজারো নাবিক।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
হরমুজ প্রণালি পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার ফি নিচ্ছে ইরান

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু করেছে। লয়েডস লিস্টের বরাতে জানা গেছে, এই করিডোর ব্যবহারের অনুমতি পেতে অন্তত একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে প্রায় ২০ লাখ ডলার বা ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। সংঘাতের জেরে বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন।

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন একটি স্ক্রিনিং ও ফি ব্যবস্থা চালু করেছে। সামুদ্রিক শিল্প বিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্টের তথ্যানুযায়ী, অন্তত একটি জাহাজকে পারাপারের জন্য চড়া ট্রানজিট ফি হিসেবে ২০ লাখ ডলার দিতে হয়েছে।

নিয়ন্ত্রিত করিডোর ও জাহাজ স্ক্রিনিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত নয়টি জাহাজ একটি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে এই পথ অতিক্রম করেছে। রুটটি ইরানের লারাক দ্বীপের খুব কাছ দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ইরানি কর্তৃপক্ষ সরাসরি জাহাজগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। মূলত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত একটি নিবন্ধন ও যাচাইকরণ ব্যবস্থার অধীনে এই সমন্বয় কাজ চলছে। এখানে পারাপারের আগে জাহাজের ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আলোচনা ও প্রস্তাবিত আইন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া এবং চীন তেহরানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা করছে। এদিকে ইরান সরকার একটি নতুন আইন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর স্থায়ীভাবে ট্রানজিট ফি ও ট্যাক্স আরোপ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আটকা পড়া জাহাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকে ইরান অনুমোদন ছাড়া পারাপার নিষিদ্ধ করে কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া জলপথে প্রবেশকারী জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ঝুঁকি ও বিশ্ববাজারে প্রভাব সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সামুদ্রিক বিমাকারীরা এই অঞ্চলকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছে, যার ফলে ‘ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরেন্স’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমার প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি ব্যারেলে সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আটকা পড়া নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুরক্ষিত কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

Tags: oil tanker iran middle east conflict irgc hormuz strait shipping fees lloyds list