• আন্তর্জাতিক
  • ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম: পাল্টা পানি ও জ্বালানি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম: পাল্টা পানি ও জ্বালানি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম: পাল্টা পানি ও জ্বালানি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের আল্টিমেটামের জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তাদের অবকাঠামোতে কোনো আঘাত এলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি ও পানি শোধন কেন্দ্রে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে। এই হুমকির ফলে সুপেয় পানির জন্য ডিস্যালিনেশনের ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গত শনিবার (২১ মার্চ) রাতে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সময় বেঁধে দেন। তিনি জানান, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি রুট 'হরমুজ প্রণালী' পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবে। এই হুমকির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও ‘পানি যুদ্ধ’ ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সমস্ত জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি শোধন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য চরম বিপর্যয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা ইরানের জন্য ক্ষতিকর হলেও তা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর জন্য হবে অস্তিত্ব সংকটের মতো। এই দেশগুলো আধুনিক মরু-শহর সচল রাখতে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হবে খাবার পানি নিয়ে। বাহরাইন ও কাতারের শতভাগ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮০ শতাংশ পানীয় জল আসে বিদ্যুৎচালিত সমুদ্রের পানি শোধন প্ল্যান্ট থেকে। ইরানের হামলায় এসব কেন্দ্র অচল হলে এই অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অবকাঠামো পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার ফলে ১৯৭০-এর দশকের পর সবচেয়ে ভয়াবহ তেল সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় গ্যাসের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ছে ভারত মহাসাগরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমার দাবি করা হলেও, তেহরান এখনো পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত শুক্রবার তারা ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা যুদ্ধের ঝুঁকিকে মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আরও দূরে নিয়ে গেছে।

Tags: donald trump middle east crisis iran-us conflict hormuz strait water crisis energy war