• আন্তর্জাতিক
  • পশ্চিমাদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আজ দিল্লিতে পুতিন: ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকির মাঝেই প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

পশ্চিমাদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আজ দিল্লিতে পুতিন: ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকির মাঝেই প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পশ্চিমাদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আজ দিল্লিতে পুতিন: ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকির মাঝেই প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ভারত সফর; এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান ও এস-৫০০ মিসাইল সিস্টেম নিয়ে হতে পারে বড় চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মোড় ঘোরানো বৈঠকে নজর বিশ্ববাসীর।

পশ্চিমাদের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের হুমকি—সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে আজ ভারতে পা রাখছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো 'Official Visit'-এ তিনি নয়াদিল্লিতে আসছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (Annual Summit) যোগ দিতে তার দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভূ-রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষা নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে ভারতের কৌশলগত অবস্থান বা 'Strategic Autonomy'-র এক বড় প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এসইউ-৫৭ ও এস-৫০০: প্রতিরক্ষা বলয়ে নতুন সমীকরণ

পুতিনের এই সফর ঘিরে প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে বড় ধরনের 'Defense Deal' হওয়ার গুঞ্জন তুঙ্গে। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট 'SU-57' এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'S-500 Prometheus' ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

দ্য মিন্টের প্রতিবেদন বলছে, দুই নেতার এই 'High Profile' বৈঠকে কেবল সামরিক চুক্তিই নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বা 'Economic Partnership' আরও গভীর করতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই পুতিনের প্রথম ভারত সফর, যা দিল্লির সঙ্গে মস্কোর পরীক্ষিত সম্পর্কের গভীরতাকেই পুনর্ব্যক্ত করে।

ট্রাম্পের চাপ ও আইসিসির পরোয়ানা: ভারতের কৌশলী অবস্থান

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও সামরিক বাণিজ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপড়েন এখন চরমে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে উচ্চশুল্ক আরোপের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু ওয়াশিংটনের এই 'Diplomatic Pressure' বা চাপকে কার্যত উপেক্ষা করেই পুতিনকে সাদরে গ্রহণ করছে নয়াদিল্লি।

অন্যদিকে, পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও ভারতের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে না। কারণ ভারত 'Rome Statute'-এ স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, ফলে আইসিসির কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ভারতীয় আদালত বা সরকারের ওপর প্রযোজ্য নয়।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: এআই ও ড্রোনের নজরদারিতে দিল্লি

রুশ প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'High Alert' জারি করা হয়েছে। দিল্লির নিরাপত্তাকে দুর্ভেদ্য করতে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে ডজনখানেক স্নাইপার ইউনিট।

প্রযুক্তিগত নজরদারির ক্ষেত্রেও কোনো কমতি রাখেনি প্রশাসন। পুরো নিরাপত্তা জোনকে 'AI Monitoring' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। পুতিনের কনভয় ও চলাচলের পথ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং 'Facial Recognition' ক্যামেরা। কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা সূত্র।

ইউরোপীয় দূতদের বিতর্কিত নিবন্ধ ও দিল্লির ক্ষোভ

পুতিনের সফরের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাজ্যের টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় একটি যৌথ নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা। সেখানে তারা ইউক্রেনে রুশ হামলাকে 'নির্বিচার আক্রমণ' এবং শান্তির প্রতি অনীহা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের এমন পদক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে 'Diplomatic Protocol'-এর লঙ্ঘন এবং সফরের আগে এমন আচরণকে ‘অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

রুশ পার্লামেন্টে সামরিক লজিস্টিক চুক্তি অনুমোদন

পুতিনের বিমান দিল্লির মাটি স্পর্শ করার আগেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রুশ পার্লামেন্ট বা 'Duma'-তে ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লজিস্টিক চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে।

রাশিয়ার এনডিটিভি জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং 'Supply Chain' বা সরবরাহ ব্যবস্থাও সহজ করবে। যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে দুই দেশ এখন থেকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারবে। রুশ পার্লামেন্টের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন এই চুক্তিকে দুই দেশের 'Strategic Relationship'-এর একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Tags: us sanctions narendra modi defense deal geopolitics vladimir putin india visit su57 jet s500 missile icc warrant russia india