• আন্তর্জাতিক
  • গাজায় বারুদের গন্ধ এখনও কাটেনি: ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া 'স্থায়ী শান্তি' অসম্ভব, সাফ জানালেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

গাজায় বারুদের গন্ধ এখনও কাটেনি: ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া 'স্থায়ী শান্তি' অসম্ভব, সাফ জানালেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
গাজায় বারুদের গন্ধ এখনও কাটেনি: ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া 'স্থায়ী শান্তি' অসম্ভব, সাফ জানালেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

দোহা ফোরামে ১৫০ দেশের কূটনীতিকদের সামনে স্পষ্ট বার্তা; ৬০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনী (ISF) গঠন নিয়ে তুরস্কের সতর্কবাণী।

গাজার আকাশ থেকে যুদ্ধবিমানের গর্জন হয়তো কিছুটা কমেছে, কিন্তু মাটির বুকে রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও, তাকে কোনোভাবেই 'স্থায়ী শান্তি' বলা যাচ্ছে না—এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দোহায় শুরু হওয়া বিশ্বনেতাদের মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলন 'দোহা ফোরাম'-এ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, গাজার মাটি থেকে শেষ ইসরায়েলি সেনা সরে না যাওয়া পর্যন্ত এই সংঘাতের প্রকৃত অবসান ঘটবে না।

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও ৬০০ বার লঙ্ঘনের খতিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র ও মিশরের সঙ্গে মিলে কাতার যে কূটনৈতিক তৎপরতা বা Diplomatic Channel সচল রেখেছিল, তার ফলেই গত ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটে। কিন্তু দোহা ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী যখন কথা বলছিলেন, তখন বাস্তব চিত্রটি ছিল ভিন্ন।

যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েল তাদের আগ্রাসী মনোভাব থেকে সরে আসেনি। পরিসংখ্যান বলছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০০ বার যুদ্ধবিরতি বা Ceasefire Violation করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম বাধা। সেই সঙ্গে উপত্যকাটি জনশূন্য করতে বা স্থানীয়দের বাস্তুচ্যুত করতে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা একের পর এক Strategic Plan সাজিয়ে যাচ্ছেন, যা স্থায়ী শান্তির পথে বড় অন্তরায়।

দোহা ফোরাম: বিশ্ব সংকটে কূটনৈতিক বার্তা

কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত এই ফোরাম বর্তমান বিশ্বের Geopolitical প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের আসরে ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকরা।

এই বিশাল সমাবেশে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা এখন ইতিহাসের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। কাগজে-কলমে চুক্তি সই হলেও, গাজায় পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীলতা বা Stability তখনই ফিরবে, যখন ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার (Troop Withdrawal) করা হবে।" তাঁর এই বক্তব্য গাজা ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।

শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপ ও 'আইএসএফ' সংকট

গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ অনুযায়ী, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপটি অত্যন্ত জটিল। পরিকল্পনা অনুসারে, এই ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে গাজা ছেড়ে যাবে এবং গাজার শাসনভার একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য 'ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্স' বা ISF নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে এই ISF গঠন নিয়েই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের জটিলতা। আরব ও মুসলিম দেশগুলো এই বাহিনীতে সেনা পাঠাতে প্রবল অনিচ্ছা প্রকাশ করছে। তাদের আশঙ্কা, এই বাহিনী মোতায়েন করা হলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে হতে পারে, যা তারা কোনোভাবেই চায় না।

তুরস্কের সতর্কবাণী ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

দোহা ফোরামে উপস্থিত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আইএসএফ বা আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের বিষয়ে আলোচনা চললেও এর Leadership Structure বা নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কোন কোন দেশ এতে অংশ নেবে, তা-ও এখনও অনিশ্চিত।

ফিদান জোর দিয়ে বলেন, আইএসএফ-এর প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের সম্পূর্ণভাবে পৃথক করা। তাঁর মতে, "আমাদের প্রধান অবজেক্টিভ হতে হবে সংঘাত এড়ানো। দুটি পক্ষকে আলাদা করা গেলেই কেবল পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।" এখন দেখার বিষয়, দোহা ফোরামের এই আলোচনা গাজার ধূলিসাৎ জনপদে সত্যিকারের শান্তির সুবাতাস আনতে পারে কি না।

Tags: middle east palestine news international relations doha forum qatar pm gaza ceasefire israel hamas hakan fidan