সিঙ্গাপুরে পৌঁছানো এবং চিকিৎসা শুরু
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তাকে সরাসরি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (Singapore General Hospital) নেওয়া হয়। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকায় তাকে দ্রুত ভর্তি করে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। সোমবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। সিঙ্গাপুরে তার সঙ্গে রয়েছেন ভাই ওমর বিন হাদি এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমিনুল হাসান ফয়সাল।
আক্রমণের পটভূমি ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। পরবর্তীকালে, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে এক জরুরি কল কনফারেন্সের মাধ্যমে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ও মামলা
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদি ওই কনফারেন্সে অংশ নেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ওসমান হাদির চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা তার চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।
হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের সম্মতিতে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় রোববার রাত আড়াইটার দিকে নরসিংদীর সদর থানা এলাকা থেকে সামিয়া ও সিপুকে এবং সোমবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে মারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।