বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে এক বিরল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক বিশেষ কেবিনেট বৈঠক (Cabinet Meeting) আহ্বান করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যমুনায় জরুরি বৈঠক
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই কেবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলোতে শুধুমাত্র সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিএনপি মহাসচিবকে এই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
হাসপাতাল থেকে সরাসরি যমুনায় ফখরুল
দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গত রাত থেকেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই হাসপাতাল থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। শোকাতুর পরিবেশে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে সরাসরি কেবিনেট বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও জানাজা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রধান রাজনৈতিক অংশীজন হিসেবে বিএনপির মতামতকে গুরুত্ব দিতেই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই ‘Inclusion’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটিকে জাতীয় ঐক্যের একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের সম্ভাব্য এজেন্ডা
ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার এই আহ্বানের মাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় সংকটে বা বিশেষ মুহূর্তে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সংস্কৃতি (Culture of Consensus) তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দেশের এই শোকাতুর সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যেকার এই সংলাপ 'State Protocol' ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।