রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং সাইফুল আলম নীরবসহ ৯ জন শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই আকস্মিক পদক্ষেপ তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন শীর্ষ নেতৃত্ব
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হওয়া এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্যারালাল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার প্রাক্কালে দলের অভ্যন্তরীণ চেইন অফ কমান্ড (Chain of Command) সুসংহত করতেই এই ‘ক্লিনজিং ড্রাইভ’ বা শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকায় রয়েছেন যারা
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন তৃণমূলের প্রভাবশালী সংগঠকরা। বহিষ্কৃত ৯ নেতা হলেন:
১. ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ২. সাইফুল আলম নীরব: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও তুখোড় ছাত্রনেতা। ৩. হাসান মামুন: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ৪. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ৫. মোহাম্মদ শাহ আলম: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ৬. আব্দুল খালেক: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ৭. তরুণ দে: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব। ৮. মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন): সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। ৯. কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
কঠোর বার্তা তৃণমূলের কর্মীদের প্রতি
বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলের আদর্শ ও কৌশলের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং সাইফুল আলম নীরবের মতো নেতাদের বহিষ্কারের মাধ্যমে হাই কমান্ড (High Command) এই বার্তাই দিয়েছে যে, পদবি যাই হোক না কেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভিন্ন উপদলের তৎপরতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলে একতা বজায় রাখা জরুরি। বহিষ্কৃতদের মধ্যে অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় শক্তিশালী জনভিত্তি সম্পন্ন। বিশেষ করে রুমিন ফারহানার মতো ‘ভোকাল’ নেতা কিংবা সাইফুল আলম নীরবের মতো মাঠের সংগঠককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির আগামী দিনের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত এই নেতারা দীর্ঘ দিন ধরেই দলের মূল ধারার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা করছিলেন, যা সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করছিল। ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বিএনপি এখন তাদের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করতে চায়।