শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের আত্মপক্ষ সমর্থন ৭৯ বছর বয়সে এসে মার্কিন মসনদ সামলাচ্ছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন ‘Microscopic’ বিশ্লেষণের মুখোমুখি। সম্প্রতি তার শারীরিক অসুস্থতা, হাতে রহস্যময় ক্ষত এবং জনসমক্ষে ঘুমিয়ে পড়ার গুঞ্জন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’কে (Wall Street Journal) দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দৃঢ়কণ্ঠে দাবি করেছেন, তার স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভালো আছে এবং তাকে নিয়ে করা সমালোচনাগুলো ভিত্তিহীন।
হাতের ক্ষতের নেপথ্যে ‘অ্যাসপিরিন’ ও ‘হাই-ফাইভ’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের হাতের উল্টো পিঠে কালো ক্ষতের দাগ দেখা গেছে, যা অনেক সময় ‘Make-up’ দিয়ে ঢাকা থাকে। এই ক্ষত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অদ্ভুত এক ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, হার্ট ভালো রাখতে তিনি প্রতিদিন ‘Blood Thinner’ হিসেবে ‘Aspirin’ সেবন করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “ডাক্তাররা বলেন রক্ত পাতলা রাখা হার্টের জন্য ভালো। আমি চাই না আমার হৃদপিণ্ড দিয়ে ঘন রক্ত প্রবাহিত হোক। আমি চাই সুন্দর, পাতলা রক্ত প্রবাহিত হোক।”
রক্ত পাতলা থাকার কারণে সামান্য আঘাতেই তার হাতে কালশিটে পড়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, পাম বন্ডি তাকে ‘High-five’ দেওয়ার সময় তার হাতের আংটির আঘাতে এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিমুনি নাকি বিশ্রামের মুহূর্ত? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো—গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বা জনসভায় তিনি চোখ খোলা রাখতে পারছেন না। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসের (Oval Office) একটি বৈঠকের সময় তাকে ঝিমোতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ‘Sleepy’ তকমাটি একেবারেই ঝেড়ে ফেলেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি কখনোই ঘুমকাতুরে নই।” যেখানে তাকে চোখ বন্ধ অবস্থায় দেখা গেছে, সেগুলোকে তিনি স্রেফ ‘Moments of Rest’ বা বিশ্রামের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কাজের চাপে ক্লান্ত শরীরে কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই ঘুমিয়ে পড়া নয়।
মেডিকেল টেস্ট ও শ্রবণের সুস্থতা অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের এমআরআই (MRI) করানো নিয়ে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তারও স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প জানান, তিনি আসলে এমআরআই নয়, বরং একটি ‘CT Scan’ করিয়েছিলেন। শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থার বিস্তারিত ছবি দ্রুত পাওয়ার জন্য এটি একটি সাধারণ পরীক্ষা মাত্র। এছাড়া বয়সের কারণে ইদানীং তিনি কানে কম শুনছেন বলে যে দাবি উঠেছে, তাও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা। বারবার তার স্বাস্থ্য নিয়ে তদন্ত বা প্রশ্ন তোলা নিয়ে তিনি রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “ইতিমধ্যেই অন্তত ২৫ বার আমি আমার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছি। আমি আবারও বলছি—আমার স্বাস্থ্য নিখুঁত (Perfect)।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও জনমত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ‘Medical Fitness’ এখন জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকরা তার এই ব্যাখ্যাগুলোকে স্রেফ ‘Damage Control’ হিসেবে দেখলেও, ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন তিনি এখনো সমান তেজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী দিনগুলোতে তার এই শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক মার্কিন রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।