মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান পরিচালনার এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে এই অভিযানের কথা জানানোর পাশাপাশি বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন।
সামরিক অভিযানের দাবি ও বিস্ফোরণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি 'বড় পরিসরের অভিযান' চালিয়েছে এবং মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই দাবি উত্থাপনের পরপরই রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক রাজ্যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ভেনেজুয়েলার সরকার অভিযোগ করেছে যে রাজধানী কারাকাস, মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো সংবিধান ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আলোকে 'যথাযথ সময় ও পরিস্থিতিতে' জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার, পেন্টাগন বা ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এই দাবির আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ আসেনি। তবে এই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী মিশন সমাপ্তির ঘোষণা দিয়ে ইউএই তাদের সব সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
পূর্ব প্রেক্ষাপট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন বিশ্লেষক পানামার প্রাক্তন একনায়ক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা এবং ইরাকের সাদ্দাম হুসেইনের আটকের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন।