প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
জাগপা ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রোববার (৪ জানুয়ারি)। ১৯৪৮ সালের এই দিনে মানবতার জন্য শান্তির জ্বলন্ত প্রদীপ এবং ছাত্র-জনতার সোনালী স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে জাগপা ছাত্রলীগ নামে ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২, ’৬৬, ’৬৯ ও ’৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, ’৭৩-’৭৪-এর দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রাম, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-র গণঅভ্যুত্থানের মতো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সম্মুখসারির ছাত্র রাজনীতিতে জাগপা ছাত্রলীগের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ও গণবিপ্লবে ভূমিকা
জাগপা নেতাদের দাবি, জাগপা ছাত্রলীগ ইতিহাসের এক অভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ১৯৭৪ সালে তারা মুজিববাদী বাকশাল, স্বজনপ্রীতির রাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তখনকার এই আন্দোলনই ২০২৪-এর গণবিপ্লবকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। নেতারা আরও দাবি করেন, আজও জাগপা ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সকল সংকটময় সময়ে সম্মুখসারির ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।
শফিউল আলম প্রধানের ঐতিহাসিক ভূমিকা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, জাগপা ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল রাজনীতি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি স্মরণ করেন, ৭৪-এর দুর্নীতি-দুঃশাসন ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম শফিউল আলম প্রধান স্বাধীন দেশে প্রথম দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন। তিনি তৎকালীন মুজিববাদী শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে ক্ষমতার দম্ভকে চুরমার করে দিয়েছিলেন।
'আজাদী সংগ্রাম' অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার
ছাত্র-জনতার উদ্দেশে রাশেদ প্রধান আরও বলেন, 'আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা পর্যন্ত আমাদের আজাদী সংগ্রাম চলবেই। আমরা আমৃত্যু আজাদী। দেশের জন্য জাগপা ছাত্রলীগের শহীদি রাজনীতি অনিবার্য। আমরা জীবন দেব, শহীদ হবো, তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কোনো আগ্রাসনের জন্য হতে দেব না।'