প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্মারকলিপি ও কারণ
বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিশেষ স্মারকলিপিতে জানানো হয়, জাতিসংঘসহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র অংশগ্রহণই নয়, এসব সংস্থায় সব ধরনের মার্কিন অর্থায়নও পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল যুক্তি হলো, এই সংস্থা, কনভেনশন এবং চুক্তিগুলো আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
গুরুত্বপূর্ণ কোন কোন সংস্থা তালিকাভুক্ত?
যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই তালিকাভুক্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আইপিসিসি (IPCC), ইউএনএফসিসি (UNFCCC) এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ (UNFPA)-এর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, এসব সংস্থার কাজ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিতীয় মেয়াদের বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও (WHO) এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। বিশেষত ডব্লিউএইচও-র মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ অর্থায়ন আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা বন্ধ হলে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এক বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার এই চরম বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি বিশ্বমঞ্চে দেশটির প্রভাব যেমন কমাবে, তেমনি জলবায়ু এবং গণতন্ত্র রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক লড়াইকেও কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করল।