যুক্তরাজ্যের স্ট্যাফোর্ড ক্রাউন কোর্টে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারিতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে ওগুরের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা ট্যামওর্থ শহরকেন্দ্রের কাছে একটি নিরিবিলি পার্কে দেখা করতে যান।
ঘটনার বিস্তারিত ও ধর্ষণের চেষ্টা
পার্কে দেখা হওয়ার পর প্রথমে দু'জনের সম্মতিতে আলিঙ্গন ও চুম্বনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এর পরপরই মেহমেত ওগুর তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। আদালতে পেশ করা তথ্যানুসারে, হামলার সময় তরুণী বারবার তাকে থামতে অনুরোধ করেন এবং নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। তরুণীর চিৎকার উপেক্ষা করেও ওগুর তার হামলা চালিয়ে যান।
আদালতে ধর্ষকের বার্তা উপস্থাপন
মামলার শুনানিতে ভুক্তভোগীকে পাঠানো ধর্ষকের একাধিক বার্তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একটি বার্তায় ওগুর লেখেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি এটা করতে চাইনি, কিন্তু নিজেকে থামাতে পারিনি।’ অন্য একটি বার্তায় তিনি লেখেন, ‘তোমার সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করার জন্য আমি দুঃখিত।’
ওগুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যুক্তি দেন, গুগল ট্রান্সলেটের কারণে তার পাঠানো বার্তাগুলোর অর্থ বদলে গেছে। তবে আদালত তার এই বক্তব্যকে গ্রাহ্য করেননি। গত গ্রীষ্মে জুরি বোর্ড তাকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে পরিচয়
আদালতে আরও জানানো হয় যে দণ্ডপ্রাপ্ত মেহমেত ওগুর তুরস্কের কুর্দি সম্প্রদায়ের সদস্য। ধর্ষণের কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং ঘটনার সময় ট্যামওর্থের একটি হোটেলে বসবাস করছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক জন এডওয়ার্ডস স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাজ্যে ওগুরের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত অন্য কর্তৃপক্ষ নেবে, আদালত নয়।
ভুক্তভোগীর মর্মস্পর্শী বিবৃতি
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে পাঠ করা এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী তরুণী জানান, এই হামলার ঘটনা তাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, আমি কখনোই এটা কাটিয়ে উঠতে পারব কি না। সে আমাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রায় এক বছর হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো মনে হয় ঘটনাটা গতকালই ঘটেছে।’