মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা 'ইসলামিক গ্রুপ (আল-জামা আল-ইসলামিয়া)'-কে 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন'-এর তালিকায় যুক্ত করেছে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই সংগঠনটিকে কোনো ধরনের আর্থিক বা অন্য সহায়তা দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মুসলিম ব্রাদারহুডের জর্ডান এবং মিশরের শাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের দাবি, এই শাখাগুলো ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে সহিংসতা ও অস্থিরতায় জড়িত ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে 'দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রথম ধাপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সংগঠনগুলোর অর্থ ও সম্পদের উৎস বন্ধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্দিষ্ট শাখাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গাজা যুদ্ধে লেবাননের শাখাটি ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছিল। এছাড়া, জর্ডানে সংগঠনটির নেতারা হামাসকে রাজনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন।
মুসলিম ব্রাদারহুডের পটভূমি মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯২৮ সালে মিশরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মিশরে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয়। এই বছরের (২০২৬) এপ্রিলে জর্ডানেও সংগঠনটির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ব্রাদারহুডকে একটি বৈশ্বিক সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আলোচনা করলেও, এখন পর্যন্ত তারা আলাদা আলাদা শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।