• আন্তর্জাতিক
  • নির্বাচনী লড়াইয়ের ‘নিরপেক্ষ চোখ’: আজ থেকে মাঠপর্যায়ে ইইউর ৫৬ দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক

নির্বাচনী লড়াইয়ের ‘নিরপেক্ষ চোখ’: আজ থেকে মাঠপর্যায়ে ইইউর ৫৬ দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী লড়াইয়ের ‘নিরপেক্ষ চোখ’: আজ থেকে মাঠপর্যায়ে ইইউর ৫৬ দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক

৬৪ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়ছেন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা; সাধারণ ভোটার থেকে প্রার্থী—সবার সঙ্গে কথা বলে তৈরি হবে নির্বাচনের ‘বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন’।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের নজরদারি জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন ইইউর ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক (Long-term Observers)। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের (EOM) উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলো।

৬৪ জেলাতেই শুরু মাঠপর্যায়ের নজরদারি

শনিবার থেকেই এই ৫৬ জন পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের মিশন শুরু করছেন। ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দলগুলো কেবল রাজধানী বা বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হবে দুর্গম ও প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত। দুই সদস্যের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা প্রতিটি অঞ্চলের নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন। মাঠপর্যায়ের এই নিবিড় অভিজ্ঞতাই হবে ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি।

কেমন হবে পর্যবেক্ষকদের কর্মপদ্ধতি?

ইইউ ইওএমের উপপ্রধান ইনতা লাসে জানান, পর্যবেক্ষক দলের প্রধান কাজ হবে তথ্যের বহুমুখী সংগ্রহ। তারা সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন সাধারণ ভোটার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। এছাড়া স্থানীয় নাগরিক পর্যবেক্ষক (Civilian Observers) এবং তরুণ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা জনমতের পালস বোঝার চেষ্টা করবেন। এই সংগৃহীত তথ্য ও আঞ্চলিক দিকগুলো নিয়মিতভাবে ঢাকায় অবস্থানরত মূল ‘এক্সপার্ট টিম’ (Expert Team)-এর কাছে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, এই মিশনে কেবল ইইউ সদস্য রাষ্ট্র নয়, বরং ইউরোপের বাইরে কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও শামিল হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে নামার আগে তাঁদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বাচনী আইন (Legal Framework) এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক বাস্তবতা (Social Reality) সম্পর্কে বিস্তারিত ‘ব্রিফিং’ প্রদান করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইইয়াবস এই মিশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ইইউর এই কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বাড়বে। জানা গেছে, ভোটের কাছাকাছি সময়ে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক (Short-term Observers) যুক্ত হবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই কর্মযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেবেন।

ইইউ স্পষ্ট করেছে যে, তাদের এই মিশন ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নীতিমালা (Code of Conduct) অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতেই তারা এখানে অবস্থান করছেন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিশন তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ (Preliminary Report) প্রকাশ করবে। পরবর্তীতে একটি বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Tags: election news international observers neutrality eu mission election observers bangladesh vote field monitoring expert team election evaluation long-term observers