** Khamenei-এর চোখে ট্রাম্প 'অপরাধী'**
ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের সময় ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) সরাসরি 'অপরাধী' (Criminal) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
খামেনির অভিযোগ: অমানবিক হত্যা ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য
এক ভাষণে খামেনি বলেন, নিহতদের মধ্যে অনেককে 'অমানবিক ও বর্বর উপায়ে' হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর জন্য তিনি রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিদাতাদের দায়ী করেন।
জবাবদিহি: শনিবারের ভাষণে খামেনি ট্রাম্পকে 'অপরাধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা: তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরও দাবি করেন, 'আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে গিলে ফেলা।'
বিক্ষোভ ও হতাহতের তথ্য: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (HRANA) তথ্যমতে:
মৃত্যুর সংখ্যা: গত ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন নিহত হয়েছেন।
তথ্য সংকট: ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের (Internet Blackout) কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরান সরকারের প্রতি বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। এরপর থেকেই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: সামরিক হামলার জল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার জানিয়েছে, তারা এমন তথ্য পেয়েছে যে, ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে।
পাল্টা সতর্কতা: এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমন কোনো হামলা হলে ইরানকে অত্যন্ত শক্তিশালী শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তেহরানকে সতর্ক করে বলা হয়, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা না করতে।'
এদিকে, ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সাইবার পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার মাত্র প্রায় ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল।