জন্মদিন উদযাপন ও প্রত্যাশা জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটান মির্জা ফখরুল। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে তিনি জন্মদিনের কেক কাটেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততা থেকে সময় বের করে তিনি আপনজনদের সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্তটি কাটান।
সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে দেশের মানুষের মুক্তি এবং একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি প্রত্যাশা করেন, সামনের দিনগুলোতে দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ছিলেন একজন আইনজীবী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মাতা ছিলেন মরহুমা মির্জা ফাতেমা আমিন। শিক্ষাজীবনে মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। তিনি বর্তমানে বাবার পক্ষে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে রাজধানীতে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
শিক্ষকতা ও সরকারি পেশা ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে একজন নিরীক্ষক হিসেবে এবং ১৯৭৯ সালে উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (অধুনা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সদস্য এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি থেকে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ তিনি বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত সময়ে রাজনৈতিক মামলায় এই প্রবীণ রাজনীতিককে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা।