• আন্তর্জাতিক
  • খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’র হুঁশিয়ারি, পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ট্রাম্প বললেন—‘দেখা যাবে কে সঠিক’

খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’র হুঁশিয়ারি, পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ট্রাম্প বললেন—‘দেখা যাবে কে সঠিক’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’র হুঁশিয়ারি, পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ট্রাম্প বললেন—‘দেখা যাবে কে সঠিক’

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংঘাত চরমে; রণতরি মোতায়েনের প্রচ্ছন্ন হুমকির মাঝেও তেহরানের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আশাবাদী ওয়াশিংটন।

বিশ্ব ভূ-রাজনীতির (Geopolitics) রঙ্গমঞ্চে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চরম উত্তেজনার বিন্দুতে দাঁড়িয়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরুর সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি (Nuclear Program) নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে খামেনির হুঁশিয়ারি কতটা সত্য তা সময়ই বলে দেবে।

খামেনির হুঁশিয়ারি ও ওয়াশিংটনের সামরিক প্রস্তুতি

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকিগুলোকে ‘নতুন কিছু নয়’ বলে উড়িয়ে দেন। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ শুরু করে, তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা একটি প্রলয়ঙ্কারী ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ (Regional War) রূপ নেবে।

খামেনির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরেই বলেন, ইরানের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে খামেনির কাছ থেকে এমন বক্তব্য আসাটাই স্বাভাবিক। তবে সামরিক শক্তির আস্ফালন দেখিয়ে ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন, “আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ (Aircraft Carrier) রয়েছে, যেগুলো ইরানের খুব কাছেই অবস্থান করছে। আমরা এখনও একটি চুক্তির (Deal) আশায় আছি। কিন্তু তা যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) সঠিক কি না, তা আমরা ঠিকই বুঝে নেব।”

সংঘাতের নেপথ্যে: পরমাণু স্থাপনায় হামলা ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূলে রয়েছে গত জুনে ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে এখন ‘নতুন নেতৃত্ব’ (New Leadership) খোঁজার সময় এসেছে। গত মাসে বিক্ষোভ তীব্রতর হলে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’। ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং ‘রেজিম চেঞ্জ’ (Regime Change)-এর নীল নকশা হিসেবে দেখছে।

যুদ্ধের দামামার মাঝেও কি সুড়ঙ্গের শেষে আলো?

রণতরি মোতায়েন আর পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকির মধ্যেও পর্দার আড়ালে আলোচনার একটি ক্ষীণ স্রোত বইছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও একটি আলোচনার কাঠামো (Negotiation Framework) তৈরির কাজ এগোচ্ছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) লারিজানি এক বার্তায় দাবি করেন, পশ্চিমা মিডিয়া যে ‘মিডিয়া ওয়ার’ (Media War) বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, তার বাইরেও একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে এই আলোচনার শর্তাবলি বা বিষয়বস্তু কী হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ (Maximum Pressure) পলিসি এবং ইরানের পিছু না হটার অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন কি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে আসবে, নাকি ট্রাম্পের ‘দেখা যাবে’ মন্তব্যটি কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন গোটা বিশ্ব।

Tags: us iran conflic