রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদের নামাজের ইমাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের সাকোঁয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকোঁয়া গ্রামের একটি ঈদগাহ মাঠে আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজ কোন ইমাম পড়াবেন, তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলাউদ্দিন তার ছেলেদের মারামারি থেকে সরিয়ে নিতে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় প্রবল উত্তেজনার মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশের বক্তব্য রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ইমাম নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মৃত আলাউদ্দিনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (স্ট্রোক) মারা গেছেন। নিহত আলাউদ্দিনের ছেলেরা জামায়াত কর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও আলাউদ্দিন সরাসরি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মহাসড়ক অবরোধ ও উত্তেজনা আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের সাকোঁয়া এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।