দেশের প্রধান আকাশপথের প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (HSIA) যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৫ মার্চ) মধ্যরাতে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে যান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। গভীর রাতে বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম এবং যাত্রীদের ভোগান্তি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
মাঝরাতে বিমানবন্দরের হালহকিকত রোববার দিনগত রাত ১২টার পর প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উইং ও অপারেশনাল এরিয়া ঘুরে দেখেন। মূলত রাতের শিফটে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং (Ground Handling), ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা বলয় কেমন থাকে, তা সরেজমিনে দেখার জন্যই এই ঝটিকা সফর। পরিদর্শনকালে তিনি ডিউটি অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি ও অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।
নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক নজরদারি মজার বিষয় হলো, প্রতিমন্ত্রীর এই সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একই দিন বিকেল ৪টায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। একই দিনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর এই জোড়া পরিদর্শন বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কড়া নজরদারিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিকেলের সেই পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচকের (CAAB) চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যাত্রীদের অভাব-অভিযোগ ও সেবার মান পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রথাগত ব্রিফিংয়ের বাইরে গিয়ে সরাসরি টার্মিনালে অবস্থানরত যাত্রীদের সাথে কথা বলেন। তিনি যাত্রীদের কাছে জানতে চান তাদের চেক-ইন (Check-in), ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কিংবা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব বা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে কি না। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা (Security) ব্যবস্থা নিয়ে কোনো শিথিলতা বরদাশত করা হবে না বলে কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেন তিনি।
আধুনিক এভিয়েশন হাব গড়ার লক্ষ্য পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, "যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকার বিমানবন্দরের ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Infrastructure) ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে। এই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।" তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরকে একটি আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং কর্মকর্তাদের আরও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
বিমাবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে শুরু করে লাউঞ্জ সুবিধা এবং কর্মীদের আচরণগত মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। নীতিনির্ধারকদের এমন নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বিমানবন্দরের সেবার মানকে দীর্ঘমেয়াদে গতিশীল করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।