বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ যখন সিয়াম সাধনার শেষ প্রান্তে এবং অধীর আগ্রহে শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদের অপেক্ষা করছে, ঠিক তখনই পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর। সাধারণত খালি চোখে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদযাপিত হলেও, এই দুটি রাষ্ট্র আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিখুঁত হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভর করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিন্নতায় দেশ দুটিতে আলাদা দিনে ঈদ পালিত হতে যাচ্ছে।
তুরস্কে শুক্রবার ঈদুল ফিতর তুরস্কের ধর্মীয় ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, সে দেশে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তাদের ‘Astronomical Calculation’ বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তুরস্কের আকাশসীমায় শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক এই নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করেই তারা রমজান শেষে শাওয়ালের প্রথম দিনটি নিশ্চিত করেছে।
সিঙ্গাপুরে শনিবার ঈদ উদযাপন অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, সে দেশে ঈদুল ফিতর পালিত হবে আগামী শনিবার (২১ মার্চ)। সিঙ্গাপুরের ইসলামিক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক দপ্তরগুলো জানিয়েছে, তাদের লব্ধ ‘Data Analysis’ বা তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের আকাশ থেকে চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। ফলে তাদের রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং সেই অনুযায়ী শনিবার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন গণনা করা হবে।
বিজ্ঞান বনাম ঐতিহ্য: জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভূমিকা উল্লেখ্য, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর উভয় দেশেই গত বুধবার ছিল রমজান মাসের ২৮তম দিন। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অধিকাংশ দেশে যখন খালি চোখে চাঁদ দেখার জন্য ‘Moon Sighting Committee’ বা চাঁদ দেখা কমিটির সভার ওপর নির্ভর করা হয়, তখন এই দেশগুলো ‘Pre-determined Calculation’ বা পূর্ব-নির্ধারিত হিসাবের মডেল ব্যবহার করে। আধুনিক ‘Tech-savvy’ এই দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় উৎসবের তারিখ নির্ধারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া হয়, যা মূলত নিখুঁত গাণিতিক ছক ও পৃথিবীর কক্ষপথে চাঁদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তৈরি।
বিশ্বজুড়ে ঈদের আবহ তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ঈদের আমেজ আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মুসলিম কমিউনিটির মাঝে উৎসবের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এদিকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শাওয়াল মাসের চাঁদ কবে দেখা যাবে এবং কবে ঈদ উদযাপিত হবে, তা জানতে আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই অগ্রগতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশও এখন প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি গাণিতিক হিসাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।