• খেলা
  • ওয়েম্বলিতে ফিরল সিটি-রাজত্ব: ও’রাইলির জোড়া ম্যাজিকে আর্সেনালকে চূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি

ওয়েম্বলিতে ফিরল সিটি-রাজত্ব: ও’রাইলির জোড়া ম্যাজিকে আর্সেনালকে চূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি

খেলা ১ মিনিট পড়া
ওয়েম্বলিতে ফিরল সিটি-রাজত্ব: ও’রাইলির জোড়া ম্যাজিকে আর্সেনালকে চূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি

পাঁচ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে নবমবারের মতো লিগ কাপ ঘরে তুলল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা; ওয়েম্বলির ফাইনালে আবারও ট্র্যাজিক নায়ক আর্সেনাল।

লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় এক ফুটবল মহাকাব্যে ফের নীল পতাকায় ছেয়ে গেল গ্যালারি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে ইএফএল কাপ (EFL Cup) বা লিগ কাপের রাজমুকুট ফিরে পেল ম্যানচেস্টার সিটি। ফাইনালে গানারদের রণকৌশলকে নস্যাৎ করে দিয়ে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতল সিটিজেনরা।

আধিপত্য বনাম কার্যকারিতা: প্রথমার্ধের লড়াই ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য বজায় রেখেছিল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা গানারদের সামনে সুযোগ ছিল চার শিরোপার (Quadruple) স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার। মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্সেনাল একের পর এক আক্রমণ সাজালেও সিটির জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি প্রথমার্ধে খানিকটা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও প্রতি-আক্রমণে ভীতি ছড়াচ্ছিল। বল পজেশনে আর্সেনাল এগিয়ে থাকলেও গোলমুখে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।

নিকো ও’রাইলির চার মিনিটের সেই ঝড় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণের ধারা বজায় রেখেছিল আর্সেনাল। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় ৬০ থেকে ৬৪—এই চার মিনিটের সংক্ষিপ্ত ঝড়ে। ম্যানচেস্টার সিটির উদীয়মান তারকা নিকো ও'রাইলি (Nico O'Reilly) হয়ে ওঠেন ওয়েম্বলির নতুন নায়ক।

ম্যাচের ৬০তম মিনিটে এক নিখুঁত ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে সিটিকে লিড এনে দেন ও’রাইলি। আর্সেনাল সেই গোল হজম করে গুছিয়ে ওঠার আগেই আবারও আঘাত হানেন এই তরুণ তুর্কি। ঠিক চার মিনিট পর, ৬৪তম মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে গানার সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন তিনি। মূলত এই জোড়া গোলেই আর্সেনালের শিরোপা স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

আর্তেতার ট্যাকটিক্যাল ব্যর্থতা ও সিটির রক্ষন ম্যাচের শেষ দিকে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে অল-আউট অ্যাটাকে যায় আর্সেনাল। বেশ কিছু পরিবর্তন এনেও গার্দিওলার Tactical Masterclass-এর সামনে অসহায় দেখিয়েছে কাই হাভার্টজ-মার্টিন ওডেগার্ডদের। সিটির ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকের তৎপরতায় লিড ধরে রাখতে কোনো বেগ পেতে হয়নি সিটিজেনদের। ফলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।

রেকর্ডের পাতায় ম্যানচেস্টার সিটি এটি ম্যানচেস্টার সিটির নবম ইএফএল কাপ শিরোপা। এর আগে ২০২০-২১ মৌসুমে সবশেষ এই ট্রফি জিতেছিল তারা। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপাধারী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল সিটি। বর্তমানে তাদের ওপরে কেবল লিভারপুল, যারা জিতেছে সর্বোচ্চ ১০টি শিরোপা।

অন্যদিকে, আর্সেনালের লিগ কাপের শিরোপা খরা আরও দীর্ঘায়িত হলো। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে শেষবার এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়েম্বলির সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া হলো না গানারদের।

পরবর্তী লক্ষ্য: ট্রেবল জয়ের পথে সিটি? লিগ কাপ জয়ের মাধ্যমে মৌসুমের প্রথম মেজর ট্রফি ঘরে তুলল ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয় প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও গার্দিওলার দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তরুণ প্রতিভা নিকো ও’রাইলির এমন পারফরম্যান্স সিটির ভবিষ্যতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা দিয়ে রাখল।

Tags: sports news match report manchester city pep guardiola premier league football news arsenal wembley stadium efl cup nico oreilly carabao cup man city win football trophies